আইপিএলে কেকেআরের ভরাডুবি! নাইটরা ভাগ্যবান, যে এখানে অবনমন নেই। ২৫ কোটির ব্যর্থ তারকা গ্রিন থেকে শুরু করে ছন্দহীন রিঙ্কু-নারিন—কেন ডুবছে কলকাতা? বিস্তারিত পড়ুন।

অজিঙ্ক রাহানে
শেষ আপডেট: 15 April 2026 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিন্দুকেরা বলছেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম থাকলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (Kolkata Knight Riders) এতক্ষণে দ্বিতীয় ডিভিশনের প্রস্তুতি নিতে হত!
শ্লেষের সুরে বলা। কিন্তু বক্তব্যে একচুল ভুল নেই। পাঁচ ম্যাচ হয়ে গেল। এখনও জয়ের দেখা নেই। লিগ তালিকার একেবারে তলায় রাহানে বাহিনী। ঝুলিতে এক পয়েন্ট—সেটাও বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে গিয়ে বরাতজোরে হাতে এসেছে, নিজেরা জিতে পায়নি। তিনবারের আইপিএল শিরোপাজয়ী দলের এমন দুর্দশা… যা দেখে অনুরাগীরা ক্রদ্ধ, সমালোচকেরা হতবাক!
এই সংকটের কেন্দ্রে ক্যামেরন গ্রিন (Cameron Green)। ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কেনা এই অস্ট্রেলিয়ান নামেই অলরাউন্ডার। কার্যত বলই করছেন না। ব্যাট হাতে নামছেন ঠিকই। কিন্তু ছন্দহীন। আধুনিক টি-২০ যা চায়, সেই আগ্রাসনের ছিটেফোঁটাও গ্রিনের ব্যাটিংয়ে ঝলসে উঠছে না।
অনেকের মতে, এটা নতুন নয়। কেকেআরের পুরনো অভ্যাস। গত মরসুমে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে ২৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় কিনেছিল তারা। সেই সিজনও একরাশ হতাশায় শেষ হয়। এবারও চেনা ছবি। স্রেফ মুখ পাল্টেছে। ভেঙ্কটেশের ভূমিকায় গ্রিন।
আরেক খলনায়ক রিঙ্কু সিং (Rinku Singh)। ১৩ কোটিতে দলে রাখা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু কেন? উত্তর কিছুতেই মিলছে না। কিন্তু যে রিঙ্কু একসময় অন্তিম ওভারে পাঁচখানা ছক্কা মেরে খেলার হিসেব উল্টে দিতেন, সেই রিঙ্কু আপাতত উধাও! স্ট্রাইক রেট তলানিতে, আত্মবিশ্বাস শূন্যে বিলীন!
শুধু ব্যাট নয়। গলদ বোলিংয়েও! একদা কেকেআরের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন জুটি। গত কয়েক মরসুমে এই দুজন মিলে বিপক্ষের ব্যাটিং লাইন আপের কালঘাম ছুটিয়ে দিতেন। এবার সেই ধার কই?
বরুণ বিশ্বকাপের মধ্যপর্ব থেকেই তথৈবচ। নারিন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন না, সেটা তাঁর পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ধরা পড়ছে। না আছে ছন্দ, না ন্যূনতম ধারাবাহিকতা। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে হতাশ হয়ে ওপেনে নামানো হল, ফিন অ্যালেনের সঙ্গে। কিন্তু অন্য অনেক কিছুর মতো কেকেআরের এই পরিকল্পনাও কাজে দিল না। উলটে ব্যাকফায়ার করল।
যার ফুল ভুগলেন অধিনায়ক রাহানে (Ajinkya Rahane)। তিনি নিজেও কাঠগড়ায়। স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সমালোচককে ‘ঈর্ষান্বিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাকযুদ্ধে যতখানি সুপটু রাহানে, ব্যাট হাতে ততটা নয়। মাঠে দাপট দেখাচ্ছেন কই? গোদের উপর বিষফোঁড়া মাথিশা পথিরানার চোট। যা কেকেআরের পেস আক্রমণকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রণ নেই। আর এসবের তালেগোলে মরসুম মাঝপথের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। আর প্রত্যাবর্তন সম্ভব? ‘অলৌকিক কামব্যাকে’রও রাস্তা কিন্তু ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।