ইডি বুধবার প্রায় ৮–৯টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালায়। পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে শুরু করে লুধিয়ানা এবং গুরুগ্রাম- এই সব জায়গায় অশোক মিত্তল ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সম্পত্তি, অফিস ও ফার্মহাউস ঘিরে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

আপ সাংসদ অশোক মিত্তাল
শেষ আপডেট: 15 April 2026 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সকালে পাঞ্জাব ও গুরুগ্রামের তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)। রাজ্যসভার সাংসদ অশোক মিত্তলের বাড়ি (AAP Rajya Sabha MP Ashok Mittal) এবং তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ছিল অন্যতম ঠিকানা। কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডাকে (Raghav Chadha) সরিয়ে তাঁকে ডেপুটি লিডার করেছে আপ, তারপরই ইডির এই অভিযান ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে।
৮–৯টি জায়গায় একযোগে হানা
ইডি বুধবার প্রায় ৮–৯টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালায়। পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে শুরু করে লুধিয়ানা এবং গুরুগ্রাম- এই সব জায়গায় অশোক মিত্তল ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সম্পত্তি, অফিস ও ফার্মহাউস ঘিরে তল্লাশি শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই অভিযান মূলত লাভলি গ্রুপের (Lovely Group) সঙ্গে যুক্ত বহু প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। তার মধ্যে রয়েছে,
এছাড়া অশোক মিত্তলের দুই ভাই রমেশ মিত্তল ও নরেশ মিত্তলের বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও তল্লাশি হয়।
এলপিইউ ক্যাম্পাসেও ইডি
সবচেয়ে নজর কেড়েছে জলন্ধরের এলপিইউ ক্যাম্পাসে সরাসরি ইডি দলের উপস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই বেশ কিছু নথি, হিসাবপত্র ও ডিজিটাল ডেটা খতিয়ে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। সূত্রের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসাগুলোর আর্থিক লেনদেন নিয়ে সন্দেহ থেকেই এই তদন্ত শুরু।
কীসের তদন্ত?
ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও তহবিল ব্যবহারে অসংগতি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ঠিক কোন লেনদেন ঘিরে সন্দেহ, তা এখনই প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে লাভলি গ্রুপের একাধিক সংস্থার আর্থিক রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই খবর।
আপ বলছে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’
অভিযান শুরু হতেই সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি (AAP)। দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ তুলেছেন, বিজেপি পাঞ্জাব নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে চাইছে। তাঁর দাবি, “পাঞ্জাবে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি, তাই এ ধরনের হানা বাড়ানো হচ্ছে।”
রাজ্যসভার আরেক আপ নেতা সঞ্জয় সিংও একই সুরে বলেন, “নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভোটে তার কোনও লাভ হবে না।” তবে ইডি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তদন্ত চলছে, নথি খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত অবস্থান সামনে আসবে বলে জানানো হয়েছে।