ইরানে পরমাণু ঘাঁটি গুঁড়িয়েছে অতি-গোপন এবং ভয়ঙ্কর বি-2 স্টেলথ বোমার। কী এই বোমার, আর কেনই বা এই অস্ত্র বেছে নিল মার্কিন সেনা?

এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেষ আপডেট: 22 June 2025 08:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের তিনটি পরমাণু ঘাঁটিতে আমেরিকার হামলার (Us bombs Iran) পর উত্তেজনার চড়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ফোর্ডো, নাটাঞ্জ ও ইসফাহানে পরমাণু ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতি-গোপন এবং ভয়ঙ্কর বি-2 স্টেলথ বোমার (B-2 stealth bomber)। কী এই বোমার, আর কেনই বা এই অস্ত্র বেছে নিল মার্কিন সেনা?
কী এই B-2 স্টেলথ বোমার?
B-2 স্টেলথ বোমার, যার প্রকৃত নাম বি-টু স্পিরিট (B-2 Spirit), হল একটি সর্বাধুনিক এবং বিপজ্জনক মার্কিন যুদ্ধবিমান। এটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে সাধারণ রাডারে ধরা পড়ে না। আকারে ছোট পাখির মতো, এর রাডার প্রতিচ্ছবি মাত্র ০.০০১ স্কোয়ার মিটার— ফলে শত্রুর নজর এড়িয়ে গোপনে আঘাত হানতে সক্ষম। ১৯৮৯ সালে এটি প্রথম উড়ান নেয় এবং গত তিন দশক ধরে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ এটি।
কীভাবে কাজ করে?
• এটি একটানা ৬,০০০ নটিক্যাল মাইল দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, মাঝপথে জ্বালানি না নিয়েই।
• অনেক উচ্চতা থেকে অপারেশন চালাতে পারে এবং ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র বহনে সক্ষম।
• এর গঠন এক ‘ফ্লাইং উইং’, যা রাডার রশ্মিকে প্রতিফলিত হতে বাধা দেয়।
• এই বিমানে ব্যবহৃত হয় রাডার শোষণকারী উপাদান এবং হিট সিগন্যাল কমানোর প্রযুক্তি, যা একে কার্যত অদৃশ্য করে দেয় শত্রুর চোখে।
কেন B-2 ব্যবহার করল আমেরিকা?
ফোর্ডো, নাটাঞ্জ ও ইসফাহানের মতো পারমাণবিক ঘাঁটিগুলো পাহাড়ের গভীরে তৈরি, যাতে বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়। সেগুলিকে ধ্বংস করতে দরকার ছিল বাঙ্কার বাস্টার (Bunker Buster) নামে পরিচিত বিশেষ বোমা। এই বোমা এতটাই শক্তিশালী যে গভীরতম কংক্রিটে তৈরি বাংকারেও প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
B-2 বোমারই একমাত্র যুদ্ধবিমান, যা এই ৩০,০০০ পাউন্ডের বোমা ( Massive Ordnance Penetrator - MOP) বহন করতে পারে। এই হামলায় ফার্ডো-তে ছয়টি বাঙ্কার বাস্টার ফেলা হয়েছে, আর বাকি দুটি স্থানে ছোঁড়া হয়েছে ৩০টি টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র।
কী এই বাঙ্কার বাস্টার বা Massive Ordnance Penetrator?
• এটি একটি GPS-নিয়ন্ত্রিত বোমা যা অতি শক্তিশালী এবং গভীর বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম।
• BLU-109 এবং GBU-28-এর তুলনায় এটি অনেক বেশি উন্নত এবং কার্যকরী।
• নিউ মেক্সিকোর পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
ট্রাম্পের বার্তা:
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে বলেছেন, “এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত”, যা শুধু আমেরিকার নয়, ইজরায়েল ও সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, ফার্ডো কার্যত আর ‘নেই’। তাঁর কথায়, এই হামলার উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতের হুমকি নস্যাৎ করে দেওয়া। এ বার শান্তি আসবে।