কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ৪০ হাজার ৯২৮ জন রাজ্য পুলিশকর্মী ও আধিকারিক মোতায়েন করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল উপস্থিতির তুলনায় এই সংখ্যাটি এক চতুর্থাংশেরও কম।

রাজ্য পুলিশ প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 April 2026 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দফার নির্বাচনী লড়াইয়ে (West Bengal Assembly Election 2026) বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে রাজ্য পুলিশও (WB Police)। কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ৪০ হাজার ৯২৮ জন রাজ্য পুলিশকর্মী ও আধিকারিক মোতায়েন করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল উপস্থিতির তুলনায় এই সংখ্যাটি এক চতুর্থাংশেরও কম।
নজরদারির শীর্ষে মুর্শিদাবাদ
কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, প্রথম দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে জেলাটিকে দুটি পুলিশ জেলায় ভাগ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ৪,২১৬ জন এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ১,৫৫০ জন— অর্থাৎ সমগ্র জেলায় মোট ৫,৭৬৬ জন পুলিশকর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
উত্তরবঙ্গের জেলাভিত্তিক বিন্যাস
প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে। সেই মোতাবেক পুলিশ মোতায়েনের হিসাব নীচে দেওয়া হল:
কোচবিহার: ২,৩৭০ জন
মালদহ: ২,৮১৮ জন
জলপাইগুড়ি: ১,৪৬৭ জন
দার্জিলিং ও কালিম্পং: যথাক্রমে ১,১৭০ জন ও ৬২৭ জন
আলিপুরদুয়ার: ১,১৫৯ জন
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট: ১,২৯০ জন
উত্তর দিনাজপুর: ইসলামপুর (১,১১৯ জন) ও রায়গঞ্জ (১,০০৪ জন) পুলিশ জেলা মিলিয়ে মোট ২,১২৩ জন।
জঙ্গলমহল ও বীরভূমের তপ্ত রাজনৈতিক আবহেও মোতায়েন করা হচ্ছে পর্যাপ্ত বাহিনী।
বীরভূম: ৩,২৪৮ জন
বাঁকুড়া: ৩,১২৭ জন
পুরুলিয়া: ৩,০০৫ জন
ঝাড়গ্রাম: ১,১০৮ জন
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুরে ৩,৯৮১ জন এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩,৩২৭ জন।
পশ্চিম বর্ধমান: আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ৩,১২৭ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনী বনাম রাজ্য পুলিশ
কমিশন আগেই জানিয়েছিল, প্রথম দফার ভোটের জন্য ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হবে। প্রতি কোম্পানিতে গড়ে ৭২ জন সদস্য ধরলে এই সংখ্যাটি দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩০৪ জন। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য সংখ্যা রাজ্য পুলিশের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
কমিশনের এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় আদতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের এই ‘সাঁড়াশি’ পাহারায় ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।