অবিশ্বাসের মেঘ কি কাটবে? ইরানের সঙ্গে আসন্ন পরমাণু চুক্তি নিয়ে বড় বয়ান দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

জেডি ভ্যান্স
শেষ আপডেট: 15 April 2026 08:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধবিরতির মাঝেও ভরসা করা যাচ্ছে না, বিশ্বাস নেই। আর সেটাই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবু আলোচনার পথ এখনও খোলা বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, 'ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, যা রাতারাতি মেটানো সম্ভব নয়। সময় তো লাগবেই।' আর তাঁর এই মন্তব্যই বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতির মূল চ্যালেঞ্জকে সামনে এনে দিয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে টানা ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা হলেও কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে তা সত্ত্বেও দুই পক্ষই আলোচনার দরজা এখনও খুলে রেখেছে। ভ্যান্সের কথায়, ইরানের প্রতিনিধিরা চুক্তিতে পৌঁছতে আগ্রহী, আর এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশাবাদী।
এই পরিস্থিতিতে আবারও পাকিস্তানই হতে চলেছে পরবর্তী কূটনৈতিক মঞ্চ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যেই ফের আলোচনা শুরু হতে পারে। এর আগে পাকিস্তানেই হয়েছিল সাম্প্রতিকতম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, যেখানে সরাসরি মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ—দশকের মধ্যে যা নজিরবিহীন।
তবে প্রধান জট রয়ে গেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে ইরান পাল্টা পাঁচ বছরের স্থগিতের কথা বলেছে। এই সময়সীমা, যাচাই পদ্ধতি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে মতভেদই শেষ পর্যন্ত চুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আলোচনা ভেস্তে যেতেই চাপ বাড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের বন্দরগুলিতে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর অবরোধ শুরু হয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কাও। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এখনও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি। তার মধ্যেই দুই পক্ষ কি আস্থা তৈরি করে বড় চুক্তির পথে এগোতে পারবে, নাকি অবিশ্বাসই আবার সংঘাতকে উসকে দেবে—এই প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড়।
ভ্যান্সের মন্তব্যে অন্তত এটুকু স্পষ্ট, কূটনৈতিক সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।