মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট (Vice President) জেডি ভ্যান্সের (JD Vance) জীবনে দ্বিতীয় নারী ও বিবাহ বিচ্ছেদের গুজব উড়িয়ে তাঁর স্ত্রী, সেকেন্ড লেডি (Second Lady) উষা ভ্যান্স (Usha Vance) তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
.jpeg.webp)
সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) এক পোস্টে তাঁরা এই সুখবর জানিয়েছেন।
শেষ আপডেট: 21 January 2026 11:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট (Vice President) জেডি ভ্যান্সের (JD Vance) জীবনে দ্বিতীয় নারী ও বিবাহ বিচ্ছেদের গুজব উড়িয়ে তাঁর স্ত্রী, সেকেন্ড লেডি (Second Lady) উষা ভ্যান্স (Usha Vance) তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) এক পোস্টে তাঁরা এই সুখবর জানিয়েছেন। জানানো হয়েছে, আগামী জুলাই মাসের শেষের দিকে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নিতে পারে।
ভ্যান্স-দম্পতি জানিয়েছেন, তাঁদের নতুন সন্তান পরিবারের আরও তিন সন্তানের সঙ্গে নতুন অধ্যায় তৈরি করবে। তাঁদের ইওয়ান (Ewan), বিবেক (Vivek) এবং মিরাবেল (Mirabel) নামে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পোস্টে তাঁরা লিখেছেন, এই খবরে তাঁরা অত্যন্ত খুশি এবং একই সঙ্গে আনন্দে ভেসে যাচ্ছেন।
৪১ বছর বয়সি জেডি ভ্যান্স এবং ৪০ বছর বয়সি উষা জানান, মা ও আগামী শিশু, দু’জনেই সুস্থ আছেন। পোস্টে বলা হয়েছে, এই আনন্দ ও ব্যস্ত সময়ের মধ্যে আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ সেনা চিকিৎসকদের (military doctors) প্রতি। যাঁরা আমাদের পরিবারের অসাধারণ যত্ন নিচ্ছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের (White House) কর্মীদের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ, যাঁদের সহযোগিতায় আমরা দেশের সেবা করতে পারছি এবং একই সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে সুন্দর পারিবারিক জীবন উপভোগ করতে পারছি।
ভ্যান্স দম্পতির পরিবারে নতুন সদস্য আসার খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন রিপাবলিকান (Republican) ভাইস প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় জন্মহার কমে যাওয়ার (declining birth rates) বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। ২০২১ সালে ওহিও (Ohio) থেকে মার্কিন সেনেট (US Senate) নির্বাচনে লড়াইয়ের সময় থেকেই ভ্যান্স বারবার বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে হলে আরও বেশি পরিবারে সন্তান জন্মানো প্রয়োজন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি সেই অবস্থানেই অনড়। ২০২৫ সালের ‘মার্চ ফর লাইফ’ (March for Life) ভাষণে তিনি বলেছিলেন, আমি চাই আমেরিকায় আরও বেশি শিশু জন্মাক।
বিদেশ সফরের সময়ও প্রায়ই স্ত্রী উষা এবং তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায় জেডি ভ্যান্সকে। রাতের ফ্লাইটে (overnight trips) এয়ার ফোর্স টু (Air Force Two)-তে উঠতে দেখা যায় শিশুদের, অনেক সময় ভারতীয় পোশাক পাজামা পরা অবস্থাতেই। এই দৃশ্য ইতিমধ্যেই মার্কিন রাজনীতিতে এক ধরনের ‘পারিবারিক ভাবমূর্তি’ তৈরি করেছে।
মার্কিন ইতিহাসে (US history) ক্ষমতার শীর্ষস্তরে থাকা নেতাদের দায়িত্বকালীন সময়ে সন্তান জন্ম হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম ছিলেন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড (Grover Cleveland)। তাঁর স্ত্রী ফ্রান্সেস ক্লিভল্যান্ড (Frances Cleveland) ১৮৯৩ সালে, ক্লিভল্যান্ডের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন।
জেডি ভ্যান্স ও উষার ঘোষণাটি মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসও নতুন করে শেয়ার করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (President Donald Trump) প্রশাসন মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে পরিবার-বান্ধব সরকার। এদিকে, হোয়াইট হাউসের মাত্র ২৮ বছর বয়সি প্রেস সেক্রেটারি (Press Secretary) ক্যারোলিন লেভিট (Karoline Leavitt) গত ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছিলেন যে, আগামী মে মাসে তাঁর কন্যাসন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জেডি ভ্যান্স পরিবারের নতুন সদস্য আগমনের খবরে ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট যে, মার্কিন নেতৃত্বের একাংশ এখন পরিবার, সন্তান এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে জাতীয় ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে।