উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য করিডর। এখান দিয়েই আসে দেশের জ্বালানির বড় অংশ। পাশাপাশি পণ্য বাণিজ্য এবং সমুদ্রপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চল কার্যত প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।

শেষ আপডেট: 3 March 2026 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাত (US-Iran conflict), সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত (West Asia conflict) ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যেকোনও বড় অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতি (Indian economy)-র উপর “গুরুতর প্রভাব” ফেলতে পারে (Gulf unrest impact on Indian economy), এমনই আশঙ্কার কথা মঙ্গলবার স্পষ্ট জানাল ভারত সরকার।
সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রথম হামলার খবর সামনে আসে। সেই সময় থেকেই ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল (US-Iran conflict India reaction)।
বিদেশ মন্ত্রক (MEA India) জানিয়েছে, “সেই সময়ই ভারত সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখা, উত্তেজনা না বাড়ানো এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হয়েছে এবং তা লাগাতার খারাপের দিকেই গিয়েছে।”
উপসাগরে এক কোটির কাছাকাছি ভারতীয়, নিরাপত্তাই প্রথম অগ্রাধিকার
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন এবং কর্মরতও। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তাঁদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনও পরিস্থিতির প্রতি আমরা উদাসীন থাকতে পারি না।”
ভারতের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুটও এই উপসাগরীয় ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্য দিয়েই অতিক্রম করে। ফলে সেখানে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি অভিঘাত ছড়িয়ে পড়বে ভারতীয় অর্থনীতিতে।
এছাড়া বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজারে ভারতীয়দের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কথা তুলে ধরে সরকার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিরোধিতাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। গত কয়েক দিনে এই ধরনের হামলায় কয়েক জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল?
উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য করিডর। এখান দিয়েই আসে দেশের জ্বালানির বড় অংশ। পাশাপাশি পণ্য বাণিজ্য এবং সমুদ্রপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চল কার্যত প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।
বর্তমানে ক্রসফায়ারে জ্বলতে থাকা এই ভূখণ্ডে সংঘাতের বিস্তার ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
আলোচনা ও কূটনীতির পথে ফেরার আহ্বান
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাত শুধু তীব্র হয়নি, বরং তা অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। “ধ্বংস এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিক জীবনযাপন ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ প্রায় স্তব্ধ। এই অঞ্চলের নিকটবর্তী দেশ হিসেবে এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত থাকায়, এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।”
ভারত জোরালভাবে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। “যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের অবসান হোক, আমরা সেই দাবিতেই সরব। ইতিমধ্যেই বহু প্রাণহানি হয়েছে, সেই বিষয়ে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি,” জানানো হয়েছে।
প্রবাসীদের পাশে দূতাবাস, নজরে পরিস্থিতি
সংঘাতপ্রবণ দেশগুলিতে ভারতের যেসব দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলি রয়েছে, তারা ভারতীয় নাগরিক ও প্রবাসী সংগঠনগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে এবং সংঘাতের কারণে আটকে পড়া ভারতীয়দের সম্ভাব্য সব রকম সাহায্য করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতেও কনস্যুলার সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এমনটাই জানানো হয়েছে সরকারের তরফে।