রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে এই দ্বীপে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। কারণ, এই দ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ইরানের তেল রাজস্বে বড় ধাক্কা লাগতে পারে, যা সামগ্রিক সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

খার্গ দ্বীপ
শেষ আপডেট: 25 March 2026 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শান্তি প্রস্তাব ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার (US Iran Ceasefire and Peace talk) মাঝেই নয়া পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ আমেরিকার। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এবার ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের (US plan to seize Kharg Island) সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে আমেরিকা। এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে সামরিক বিকল্পগুলিও (US military strategy) এখন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে এই দ্বীপে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও (Middle East troop deployment) আলোচনায় রয়েছে। কারণ, এই দ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ইরানের তেল রাজস্বে বড় ধাক্কা লাগতে পারে, যা সামগ্রিক সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রফতানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই বাইরে পাঠানো হয়। ফলে এই জায়গাটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলেই মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।
সামরিক বিকল্প ও প্রস্তুতি জোরদার
এই সংঘাতের আবহে শুধুমাত্র খার্গ দ্বীপ নয়, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গোটা অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছে মার্কিন সেনা কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও জানা গিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনাকে আরব দুনিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই বাহিনী দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ইউনিট হিসেবে পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, দূতাবাস সুরক্ষা কিংবা জরুরি উদ্ধার অভিযানে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে এই ডিভিশনের প্রথম ব্রিগেড কমব্যাট টিম এবং সদর দফতরের সদস্যদের মোতায়েনের জন্য লিখিত নির্দেশ অনুমোদিত হয়েছে।
সংঘাতের আবহে বাড়ছে সেনা উপস্থিতি
মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এমন সময় সামনে এল, যখন আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই আরব দুনিয়ায় প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন করে সেনা পাঠানো হলে সামরিক বিকল্পের পরিসর আরও বাড়বে, যদিও এখনও ইরানের মাটিতে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করছেন। সম্প্রতি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি কিছুটা স্থগিত রেখেছেন তিনি, ‘গঠনমূলক আলোচনা’র কথা উল্লেখ করে। যদিও ইরান সেই দাবি অস্বীকার করেছে।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে ইতিমধ্যেই মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে, ১৩ জন সেনার মৃত্যু এবং প্রায় ২৯০ জন আহত হয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ।
কৌশলগত গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, খার্গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্রকে টার্গেট করা মানে সরাসরি ইরানের অর্থনীতিতে আঘাত হানা। এর ফলে যুদ্ধের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে, তবে একই সঙ্গে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও বাড়বে।
রিপোর্টে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখল বা সুরক্ষার মতো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।