Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

মজা দেখতেই খার্গে ফের হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, হরমুজে বাধা পেলে ফল ভুগতে হবে ইরানকে: ট্রাম্প

ট্রাম্প বলেন, “শালীনতার খাতিরে” তেল স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তবে যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।

মজা দেখতেই খার্গে ফের হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, হরমুজে বাধা পেলে ফল ভুগতে হবে ইরানকে: ট্রাম্প

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 15 March 2026 08:43

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) আবারও হামলার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আগের হামলাতেই দ্বীপটির বড় অংশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবুও প্রয়োজনে সেখানে আরও কয়েকবার আঘাত হানতে পারে আমেরিকা (Trump warns Kharg Island strike again), এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা চাইলে আবারও খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমরা হয়তো মজা করেই আরও কয়েকবার সেখানে আঘাত হানতে পারি।”

‘আরব দুনিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলা’

এই মন্তব্য আসে তার একদিন পরেই, যখন ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র “আরব দুনিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলা” চালিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বাহিনী দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করে দিয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবেই সেখানে থাকা তেল পরিকাঠামোকে অক্ষত রাখা হয়েছে।

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র। দেশের জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এই দ্বীপ।

ট্রাম্প বলেন, “শালীনতার খাতিরে” তেল স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তবে যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।

‘ইরান চুক্তি করতে চাইছে, কিন্তু শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়’

একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তেহরান যুদ্ধ থামাতে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে। তবে সেই প্রস্তাবিত চুক্তির শর্ত এখনও আমেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, “ইরান চুক্তি করতে চাইছে। কিন্তু শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ঠিকঠাক নয়।”

এই মন্তব্যকে অনেকেই ট্রাম্পের আগের অবস্থানের তুলনায় আরও কড়া বলে মনে করছেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, খার্গ দ্বীপে শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই আঘাত করা হয়েছে।

শান্তি আলোচনায় অনীহা?

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স–এর দাবি, আরব দুনিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশ যুদ্ধ থামাতে আলোচনার উদ্যোগ নিলেও সেই প্রচেষ্টায় সাড়া দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।

পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক আলোচনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা কার্যত নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা

ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়, তাহলে তা আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য বড় কৌশলগত সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহণের অন্যতম প্রধান এই জলপথে সংঘাতের প্রভাব পড়তেই জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের জেরে তেলের সরবরাহে নজিরবিহীন বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের উপর নির্ভরশীল দেশগুলিকে নিজেদের নৌবাহিনী পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত করার আহ্বান জানান।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “বিশ্বের যে দেশগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পায়, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। আমরা অবশ্যই সাহায্য করব, অনেকটাই।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ওই সমুদ্রপথে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান চালাবে এবং অনেক দেশই তাতে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে দেখাচ্ছে ইরান

অন্যদিকে ইরান খার্গ দ্বীপে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দ্বীপে ৯০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল নৌবাহিনীর মাইন সংরক্ষণ কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা।

দ্বীপটি পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত।

পাল্টা হুমকি তেহরানের

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে দিয়েছেন, দেশের জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর কোনও হামলা হলে তার জবাব দেবে তেহরান।

শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দিকে ইরান থেকে মোট ৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। এছাড়া দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, আবুধাবির খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরাহ বন্দরের আশপাশের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে ইরান। এই বন্দরের কাছাকাছি মার্কিন ব্যাংকের শাখাগুলিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে খার্গ দ্বীপে যে হামলা হয়েছে তা তাদের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়নি।

যুদ্ধের বলি দুই হাজারের বেশি মানুষ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের উপর বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়েছে। সরকারি সূত্র এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ইরানের নাগরিক।


```