ইরানের মোট তেল রফতানির (Iran Oil Export) প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ দিয়ে হয়। ফলে খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংস হলে তা ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
.jpg.webp)
খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা!
শেষ আপডেট: 15 March 2026 00:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ার সংঘাতের (Middle East Tension) উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরানের 'মুকুট' খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা করা হয়েছে বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump)। তাঁর কথায়, মার্কিন বাহিনী দ্বীপের সব সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই অবকাঠামো ধ্বংস করা যায়নি বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছেন, তাঁর নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command) পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে (military targets on Kharg Island)। তাঁর কথায়, "ইরানের 'মুকুট' খার্গ দ্বীপে (Iran's Crown Jwel Kharg Island) থাকা সমস্ত সামরিক ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” তবে আপাতত দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা করা হয়নি বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে সেই তেল অবকাঠামোকেও টার্গেট করা হতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ
খার্গ দ্বীপ (Kharg Island) পারস্য উপসাগরের একটি ছোট প্রবাল দ্বীপ। আয়তনে মাত্র প্রায় ৭.৭ বর্গমাইল হলেও ইরানের তেল রফতানির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটি ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২৭ মাইল দূরে এবং হরমুজ প্রণালী থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
এই দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থানই এটিকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ইরানের অধিকাংশ উপকূল অগভীর হওয়ায় বড় তেলবাহী জাহাজ সহজে ভিড়তে পারে না। কিন্তু খার্গ দ্বীপের কাছে সমুদ্র গভীর হওয়ায় বড় তেল ট্যাঙ্কার সহজেই সেখানে এসে তেল লোড করে চলে যেতে পারে (Iran oil export hub)। ইরানের বিভিন্ন তেলের ঘাঁটি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরাসরি এই দ্বীপে পৌঁছে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক দিনে এই দ্বীপ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩ থেকে ১৬ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানি হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান রফতানি বাড়িয়ে দৈনিক প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। দ্বীপে অতিরিক্ত প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ ব্যারেল তেল মজুত থাকে বলেও জানা গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইরানের মোট তেল রফতানির (Iran Oil Export) প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ দিয়ে হয়। ফলে খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংস হলে তা ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভবিষ্যতে এই দ্বীপের তেলের ঘাঁটিগুলিতে হামলা করা হয়, তাহলে শুধু ইরানই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি। এই পরিস্থিতিতে খার্গ দ্বীপের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।