তৃণমূলের প্রকাশিত ওই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, কমিশনের তরফে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে যে, অভিষেকের স্ত্রীর মাধ্যমে নির্বাচনের টাকা পাঠানো হতে পারে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাদে অভিষেক, তাঁর স্ত্রী এবং তৃণমূলের সমস্ত মন্ত্রী ও নেতার গাড়িতে কড়া তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রুজিরা
শেষ আপডেট: 14 April 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে রাজ্য রাজনীতিতে নিত্যনতুন বিতর্ক। এসআইআর (West Bengal SIR) নিয়ে দড়ি টানাটানির মধ্যেই এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরার গাড়িতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন (ECI)। আর এই নির্দেশ কোনও চিঠিতে নয়, বরং দেওয়া হয়েছে ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ বার্তার মাধ্যমে। একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সোমবার এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে শাসক দল।
তৃণমূলের প্রকাশিত ওই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, কমিশনের তরফে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে যে, অভিষেকের স্ত্রীর মাধ্যমে নির্বাচনের টাকা পাঠানো হতে পারে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাদে অভিষেক, তাঁর স্ত্রী এবং তৃণমূলের সমস্ত মন্ত্রী ও নেতার গাড়িতে কড়া তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ওই বার্তায় ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং নেপাল সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢোকার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি।
তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দাবি করা হয়েছে যে, রাজ্যে ‘স্বাস্থ্যশিবিরের’ নামে টাকা সরানো হচ্ছে। এই কারচুপি রুখতেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের গতিবিধির ওপর নজরদারি ও তল্লাশির এই ফরমান। সেখানে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তবে তৃণমূলের তরফে শেয়ার করা এই স্ক্রিনশট নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দেখা গিয়েছে, স্ক্রিনশটে অভিষেকের নাম ইংরেজিতে দু’রকম ভাবে লেখা রয়েছে। নামের পাশে কোনও পদবির উল্লেখ নেই, ফলে এই ‘অভিষেক’ আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি না, তা নিয়ে ধন্দ রয়েই যাচ্ছে। অভিষেকের স্ত্রীর কথা বলা হলেও সেখানে ‘রুজিরা’ নামের উল্লেখ নেই।
তৃণমূলের অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তাঁরা এটা জানিয়েছেন, প্রত্যেক নির্বাচনের আগে এভাবে গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এটা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। নতুন কোনও বিষয় নয়। এদিকে, অতীতে এসআইআর সংক্রান্ত বিতর্কের সময় কমিশন জানিয়েছিল যে, কাজের দ্রুততার স্বার্থে অনেক সময় হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এতে বেআইনি কিছু নেই। কিন্তু এ দিনের এই সুনির্দিষ্ট তল্লাশির নির্দেশটি আদতে কমিশন দিয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
ভোটের মুখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার রাশ এখন কমিশনের হাতে। একাধিক পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা নিয়ে নবান্ন ও কমিশনের সংঘাত যখন তুঙ্গে, তখন এই হোয়াটসঅ্যাপ বিতর্ক সেই আগুনে ঘি ঢালল। মমতা-অভিষেক লাগাতার কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলছেন। এখন দেখার, এই চাঞ্চল্যকর স্ক্রিনশট নিয়ে কমিশন শেষ পর্যন্ত কী সাফাই দেয়, নাকি এই বিতর্ক নির্বাচনী উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।