ইরান তেলের বাজারে (Oil Market) নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে, কিন্তু চিনের সঙ্গেও অর্থনৈতিক সম্পর্কও শক্ত করতে চাইছে। এই নতুন কৌশল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা (International Security) এবং বিশ্ববাজারের তেলের দাম উভয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 March 2026 22:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমুজের প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশল ভাবছে ইরান (Iran)। চলতি মাসের শুরু থেকেই যুদ্ধ পরিস্থিতির (Iran US Israel War) জেরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই তেল ও গ্যাস রফতানির জলপথ বন্ধ রেখেছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার পর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সীমিত সংখ্যক তেল ট্যাংকার (Oil Tankers) চলাচল করতে দেবে, কিন্তু শর্ত হচ্ছে তেল বিক্রি হবে কেবল চিনা ইউয়ানে (Chinese Yuan)।
বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহণ হয় এই জলপথ দিয়ে। সাধারণত তেলের আন্তর্জাতিক লেনদেন US ডলারে (US Dollars) হয়, তবে রাশিয়ার ক্ষেত্রে যেমন রুবল বা ইউয়ান ব্যবহৃত হয়, ইরানও সেই পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে।
জাতিসংঘের মানবিক সতর্কতা (UN Humanitarian Warning) অনুসারে, যদি হরমুজে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হয়, তার মানবিক প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। জাতিসংঘের উপ-সাধারণ সচিব (Under-Secretary-General) টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, “যদি জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়, খাদ্য, ওষুধ, সার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী সরবরাহ কঠিন হয়ে যাবে এবং ব্যয় বাড়বে।”
চিনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি (China, Second Largest Economy) চিনের তেলের প্রায় ৪৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) মাধ্যমে পৌঁছয়, তাই এই জলপথ চিনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করেছেন, যে তারা ইরানের খার্গ দ্বীপের (Kharg Island) কাছে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করেছে। কমপক্ষে ৮০টি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী শীঘ্রই তেল ট্যাংকারের নিরাপদ বহন (Escorting Oil Tankers) শুরু করবে।
খার্গ দ্বীপ ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি দেশের তেল রফতানির (Oil Exports) প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে, তাই ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, দ্বীপটি দখল করার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে, যা আরব দুনিয়ার চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে।
ইরান তেলের বাজারে (Oil Market) নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে, কিন্তু চিনের সঙ্গেও অর্থনৈতিক সম্পর্কও শক্ত করতে চাইছে। এই নতুন কৌশল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা (International Security) এবং বিশ্ববাজারের তেলের দাম উভয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।