রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা আলোচনা করছে, এবং খুবই মরিয়া হয়ে একটা চুক্তি করতে চাইছে (Iran US conflict)। কিন্তু সেটা বলতে ভয় পাচ্ছে, কারণ তারা ভাবছে নিজেদের লোকের হাতেই খুন হয়ে যাবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 March 2026 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান শান্তি আলোচনা (Iran peace talk) অস্বীকার করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেন, তেহরান আসলে গোপনে আলোচনায় বসেছে (Trump Iran peace talks claim)। এমনকি তাঁর আরও দাবি, ইরানের আলোচকরা নিজেদের দেশের লোকজনের হাতেই খুন হয়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন বলেই প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।
রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা আলোচনা করছে, এবং খুবই মরিয়া হয়ে একটা চুক্তি করতে চাইছে (Iran US conflict)। কিন্তু সেটা বলতে ভয় পাচ্ছে, কারণ তারা ভাবছে নিজেদের লোকের হাতেই খুন হয়ে যাবে।”
এখানেই থামেননি তিনি। আরও যোগ করেন, “ওরা এটাও ভয় পাচ্ছে যে, আমাদের হাতেও ওদের মৃত্যু হতে পারে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ঠিক তখনই, যখন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমরা কোনও আলোচনা করতে চাই না।” ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে তীব্র বৈপরীত্য সামনে এসেছে।
চলমান সংঘাতের চতুর্থ সপ্তাহে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুদ্ধে ইরান “ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে”, যদিও তেহরান এখনও হরমুজ প্রণালীতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও সরব হয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা এই সামরিক অভিযানে আমেরিকার “বিরাট সাফল্য” থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালানোর প্রশ্নে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা ‘যুদ্ধ’ শব্দটা পছন্দ করে না, কারণ তাতে অনুমোদন নিতে হয়। তাই আমি ‘সামরিক অভিযান’ বলছি।”
হুঁশিয়ারি ও চাপের রাজনীতি
এর আগেই হোয়াইট হাউস জানিয়ে দিয়েছিল, ইরান যদি আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে “নরক নেমে আসবে” তাদের উপর। একইসঙ্গে দাবি করা হয়, তেহরান এখনও আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার প্রতি তারা “নেতিবাচক” প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিয়াভিট সাংবাদিকদের বলেন, “ইরান যদি বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, এবং বুঝতে না পারে যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প বাড়িয়ে বলেন না। তিনি প্রস্তুত, প্রয়োজনে ভয়ঙ্কর আঘাত হানতে পারেন। ইরানের ফের ভুল হিসাব করা উচিত নয়।”
আলোচনা কি সত্যিই চলছে?
আলোচনা থমকে গিয়েছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে লিয়াভিট বলেন, “আলোচনা চলছে। এবং তা ফলপ্রসূ।”
তবে তেহরানে ঠিক কার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কথা বলছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাঁর উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই-কেও জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
খবরে ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ, যিনি ধর্মীয় নেতাদের বাইরে অন্যতম প্রভাবশালী মুখ।
এছাড়াও, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা পাকিস্তানে গিয়ে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, এমন জল্পনাও রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
যুদ্ধের বিস্তার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ও অতিরিক্ত মেরিন মোতায়েন করছে। জল্পনা, ইরানের তেল সম্পদ দখল বা হরমুজ সুরক্ষিত করতে স্থল আক্রমণের নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
হোয়াইট হাউস এখনও তাদের আগের অনুমানেই স্থির, এই সামরিক অভিযান ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প জানিয়েছেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক পিছিয়ে মে মাসের মাঝামাঝি করা হয়েছে, কারণ আপাতত এই সংঘাত সামলানোই তাঁর অগ্রাধিকার।