পাকিস্তানে আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা হতে পারে বলে জোর জল্পনা। ট্রাম্পের ইঙ্গিত ও শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তোলপাড়।

পাকিস্তানে আমেরিকা-ইরান বৈঠক?
শেষ আপডেট: 25 March 2026 00:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মাঝেই নতুন করে সামনে এল শান্তি(Iran Us Peace talk) আলোচনার সম্ভাবনা। মঙ্গলবার সন্ধে থেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় জল্পনার বিষয় হল, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সেই শান্তি বৈঠকের মঞ্চ বাঁধা হতে পারে ইসলামাবাদে (Islamabad Pakistan)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সাম্প্রতিক বার্তায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। ঘটনার ক্রোনোলজি এরকম—পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এদিন আমেরিকা ও ইরানকে আলোচনায় বসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানে। তার পর ট্রাম্প দ্রুত সেই বার্তাটি নিজের প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে হইচই পড়ে গেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকা আলোচনার পথে এগোতে চাইছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প এর আগেও অবশ্য দাবি করেছিলেন যে আমেরিকা ইতিমধ্যেই যুদ্ধে এগিয়ে রয়েছে, তবু পাকিস্তানের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা তাঁর অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অনেকে।
ইরান প্রথমে এই ধরনের আলোচনার দাবি উড়িয়ে দিলেও পরে তেহরান স্বীকার করে যে বিভিন্ন ‘বন্ধু দেশ’ থেকে আমেরিকার তরফে আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ বা ট্র্যাক টু আলোচনা যে চলছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট। সম্ভাব্য আলোচনায় কারা অংশ নেবেন, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু জানা না গেলেও মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ কিছু নাম এবং ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিনিধিদের নিয়ে জল্পনা চলছে।
কূটনীতিকদের অনেকের মতে, পাকিস্তানও মওকা খুঁজছিল। ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য ছুতোয়নাতা ক্রমাগত বার্তা দিচ্ছিলেন শাহবাজ শরিফ। ইরান সংঘাতের মওকা বুঝে ফের শাহবাজ ঝাঁপ দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের প্রতি সহানুভূতি দেখালেও, আমেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে ইসলামাবাদের। এই দ্বৈত অবস্থানই ইসলামাবাদকে আলোচনার সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে সামনে এনে দিয়েছে।
তবে এও ঠিক যে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনও থামেনি। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে, এবং দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
গোটা পরিস্থিতির উপর ভারতও নজর রাখছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের আবহেই আলোচনার সম্ভাবনা—এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই এখন এগোচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি। পাকিস্তান যদি সত্যিই এই আলোচনার মঞ্চ হয়ে ওঠে, তবে তা শুধু এই সংঘাত নয়, গোটা অঞ্চলের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।