হরমুজ প্রণালীতে ফাইবার অপটিক কেবল ছিঁড়লে বড় ধাক্কা খেতে পারে ভারত।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 24 March 2026 22:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমুদ্রের নীচে পাতা ফাইবার অপটিক কেবলই আজকের ডিজিটাল দুনিয়ার (Global Internet) প্রাণরস। এই কেবলগুলোর মাধ্যমেই বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যায় ইন্টারনেট ও ডেটা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়া ইরান এবার সেই সমুদ্রতলের ‘ডিজিটাল তার’ কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। যদিও তেহরানের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এর জেরে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিশ্বজুড়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তবে শুধু জ্বালানি নয়, সমুদ্রের নীচে থাকা ইন্টারনেট কেবল নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন আশঙ্কা। হরমুজ প্রণালীর নীচ দিয়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবল। শুধু হরমুজ নয়, লোহিত সাগরের বাব এল-মান্ডেব প্রণালী দিয়েও এই ধরনের ফাইবার অপটিক কেবল গিয়েছে, যা ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বড় অংশের ইন্টারনেট ট্র্যাফিক বহন করে।
ইরান সরাসরি কিছু না বললেও, ইয়েমেনের জঙ্গি গোষ্ঠী হুথি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এই কেবল ছিঁড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা হবে আধুনিক সভ্যতার জন্য বড়সড় ধাক্কা। কারণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কার্যত একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, লোহিত সাগরের নীচ দিয়ে প্রায় ১৭টি সাবমেরিন কেবল গিয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ ডেটা আদানপ্রদান হয়।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে ভারতের উপরেও। প্রায় ১৪০ কোটির দেশ আন্তর্জাতিক ডেটা ট্র্যাফিকের জন্য অনেকটাই সাবমেরিন কেবলের উপর নির্ভরশীল। ফলে কেবল বিচ্ছিন্ন হলে সবার আগে ইন্টারনেটের গতি মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। সাধারণ ওয়েবসাইট খুলতেও দীর্ঘ সময় লাগবে, অনলাইন পরিষেবা ব্যাহত হবে।
ক্লাউড-ভিত্তিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। Amazon Web Services বা Microsoft Azure-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বহু সংস্থা তাদের ডেটা সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে। সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই ডেটা অ্যাক্সেস করা কঠিন হয়ে যাবে, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রযুক্তি পরিষেবায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
ডিজিটাল লেনদেনও বিপদের মুখে পড়বে। UPI, নেট ব্যাঙ্কিং, কার্ড পেমেন্ট—সবই ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। ফলে কেবল বিচ্ছিন্ন হলে আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আইটি ও আউটসোর্সিং পরিষেবা, ই-কমার্স, ফুড ডেলিভারি, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম—সব ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এরই মধ্যে Alcatel Submarine Networks ‘ফোর্স মেজর’ সতর্কতা জারি করেছে বলে জানা গিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে সৌদি আরবের একটি কেবল বসানোর জাহাজও নাকি কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে, কিন্তু ইরানের অনুমতি না মেলায় তা এগোতে পারছে না। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।