সংঘাতের শুরু থেকে রুপি (Indian Rupee) প্রায় ৩ শতাংশ দুর্বল হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরে স্বল্পমেয়াদী পতন। দুর্বল রুপি কেবল মুদ্রা বাজারে প্রভাব ফেলে না; আমদানি করা জ্বালানি, ইলেকট্রনিকস ও শিল্প সামগ্রীও ব্যয়বহুল হয়ে যায়।

টাকার দামে পতন
শেষ আপডেট: 23 March 2026 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংঘাতের আবহে টাকার দামে রেকর্ড পতন (Rupee record low)। সোমবার মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির দর নামল ৯৩.৮৯ (Indian rupee vs US dollar)। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশীয় মুদ্রার উপর প্রভাব পড়ছে (crude oil impact on rupee)। মাত্র এক সপ্তাহ আগে রুপি ৯৩ টাকার নীচে গিয়েছিল, আর এখন তা ৯৪ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে (Middle East tension) অপরিশোধিত তেলের দাম তুঙ্গে উঠেছে, প্রতি ব্যারেল দাম ১১০ ডলারের উপরে। ভারত (India) তার মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করে। তেলের দাম বেড়ে গেলে ভারতের জন্য তা আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, কারণ তেল কিনতে আরও বেশি ডলারের প্রয়োজন হয়। এতে ডলারের চাহিদা বেড়ে রুপি দুর্বল হয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত সংঘাতের শুরু থেকে রুপি (Indian Rupee) প্রায় ৩ শতাংশ দুর্বল হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরে স্বল্পমেয়াদী পতন। দুর্বল রুপি কেবল মুদ্রা বাজারে প্রভাব ফেলে না; আমদানি করা জ্বালানি, ইলেকট্রনিকস ও শিল্প সামগ্রীও ব্যয়বহুল হয়ে যায়। এর প্রভাব ভোগান্তি হিসেবে সাধারণ মানুষের দামে এবং মুদ্রাস্ফীতিতে পড়তে পারে।
রুপির দুর্বলতার আরও একটি কারণ হল ভারতীয় বাজার (Indian Market) থেকে বিদেশি পুঁজির ধীরগতিতে বেরিয়ে যাওয়া। গত কয়েক সপ্তাহে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইক্যুইটিস বিক্রি করে ডলারে রূপান্তর করেছেন, যা রুপির ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (US) ৪.৪ শতাংশর বেশি বন্ড রিটার্ন পাওয়া যায়, তাই অস্থির সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ এবং লাভজনক সম্পদ বেছে নেন।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মাঝে মাঝে ডলার সরবরাহ করে অস্থিরতা কমাচ্ছে, কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট মান রক্ষা করছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ক্রুড তেলের দাম একইভাবে বাড়তে থাকে এবং বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে, রুপি ৯৪–৯৫ টাকার দরে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে রুপি ৯৩.০০–৯৪.২৫ টাকার মধ্যে ওঠা–নামা করতে পারে। এই রেকর্ড নিম্ন মান শুধু একটি ঘটনা নয়, বরং ভারতের অর্থনীতির ওপর বিদেশি চাপের একটি স্পষ্ট সংকেত।