সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা শেয়ার বাজারে, সেনসেক্স পড়ল ১২০০ পয়েন্টের বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেলের দাম বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার বাজার
শেষ আপডেট: 23 March 2026 10:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) যুদ্ধের আঁচে সপ্তাহের শুরুতেই ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ারবাজার (stock market)। সোমবার সকালে লাল সূচকে (red mark) খুলল দালাল স্ট্রিট। অশান্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আর ঊর্ধ্বমুখী অপরিশোধিত তেলের (crude oil) দাম—দুটোর চাপেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা (uncertainty)।
সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে (9:30 am) এসঅ্যান্ডপি বিএসই সেনসেক্স (S&P BSE Sensex) ১,২৪৩ পয়েন্ট নেমে দাঁড়ায় ৭৩,২৮৯.৯৬-এ। একই সময়ে এনএসই নিফটি ৫০ (NSE Nifty50) ৪১৩.৮৫ পয়েন্ট পড়ে ২২,৭০০.৬৫-এ। সপ্তাহের প্রথম দিনেই এই বড় পতনে চাপে বাজারের মুড।
জিওজিত ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের (Geojit Investments Limited) চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট (Chief Investment Strategist) ড. ভি কে বিজয়কুমার (Dr. VK Vijayakumar) জানান, পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) যুদ্ধ ইতিমধ্যেই চতুর্থ সপ্তাহে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু কবে এই সংঘাতের শেষ হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত নেই। তাঁর কথায়, “এই যুদ্ধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট (President Trump) ইরানকে (Iran) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।”
যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট পাল্টা জানিয়েছেন, তাদের ভূখণ্ড লঙ্ঘন না করলে হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে সবার জন্য। এই অবস্থান তেলের বাজারে (oil market) তৎক্ষণাৎ আতঙ্ক কিছুটা ঠেকালেও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা কিন্তু রয়েই গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘রিস্ক-অফ’ (risk-off) পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সব ধরনের সম্পদে (assets)—শেয়ার (stocks), বন্ড (bonds), এমনকি সোনা (gold) ও রুপোর (silver) মতো নিরাপদ বিনিয়োগেও। আশ্চর্যের বিষয়, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত সোনার পতন অনেক ক্ষেত্রেই শেয়ারের থেকেও বেশি।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব বেশি কিছু করার নেই। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, আতঙ্কিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে টাকার (rupee) তীব্র অবমূল্যায়ন (depreciation) কিছু ক্ষেত্রে সুযোগও এনে দিতে পারে—বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস (pharmaceuticals), অটো (autos) এবং অটো অ্যানসিলিয়ারি (auto ancillaries) খাতে। দীর্ঘদিন চাপে থাকা আইটি (IT) সেক্টরেও ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।