তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি টাকার ওপর চাপ তৈরি করে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ বাড়ার ফলে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 March 2026 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমী দুনিয়ার বাড়তে থাকা সংঘাতের (Middle East Tension) জেরে আবারও বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা (Indian Currency)। শুক্রবার ডলারের তুলনায় টাকা প্রথমবার ৯৩-এর গণ্ডি পেরিয়ে রেকর্ড তলানিতে (Indian Currency Record Low) পৌঁছেছে। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই 'রুপি' দুর্বল হয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৩.১৫-য়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পিছনে প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। অর্থনীতিবিদদের হিসেব বলছে, ক্রুড তেলের দাম প্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যায়।
তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি টাকার ওপর চাপ তৈরি করে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ বাড়ার ফলে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
শুধু তেলের দাম নয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও এই পতনের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে, যা টাকার মতো উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
এছাড়া বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও (FII) ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এতে রুপিকে ডলারে রূপান্তর করার প্রবণতা বাড়ছে, যা মুদ্রার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিও এই পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। সুদের হার কমানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় ডলার শক্তিশালী রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব শুধু বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। রুপির পতন এবং তেলের দাম বৃদ্ধি মিলিয়ে দেশে আমদানি-নির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এতে ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের খরচও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুর দিকেই ভারতীয় মুদ্রা ৯২ টপকে গিয়ে পতনে রেকর্ড করে ফেলেছিল।
এখন বাজারের নজর থাকবে আরব দুনিয়ার পরিস্থিতি, তেলের দামের ওঠানামা এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে আগামী দিনে।