১০ হাজার টাকা তুলতে গিয়েছিলেন, হাতে এল না এক টাকাও! উল্টে অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে গেল পুরো টাকাটাই। তারপর শুরু হল নয় বছরের দৌড়ঝাঁপ, ই-মেল, অভিযোগ আর অপেক্ষার ম্যারাথন।

ছবি- এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 19 March 2026 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ হাজার টাকা তুলতে গিয়েছিলেন, হাতে এল না এক টাকাও! উল্টে অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে গেল পুরো টাকাটাই। তারপর শুরু হল নয় বছরের দৌড়ঝাঁপ, ই-মেল, অভিযোগ আর অপেক্ষার ম্যারাথন। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ব্যাঙ্কই দিতে চলেছে মূল টাকার ৩০ গুণেরও বেশি ক্ষতিপূরণ (costliest cash-dispensing errors for a bank)। সুরাটের এই ঘটনাই এখন উদাহরণ, সাধারণ গ্রাহকের লড়াইও বড় ব্যাঙ্ককে নতজানু করাতে পারে। অবশেষে ন্যায় পেলেন সুরাটের ওই গ্রাহক।
ঘটনা কী হয়েছিল?
২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। সুরাটের উধনা এলাকার এক ব্যক্তি একটি এসবিআই এটিএম থেকে ১০ হাজার টাকা তুলতে যান। তিনি কার্ড ঢোকান, পিন দেন, কিন্তু মেশিন না তো টাকা দেয়, না কোনও রসিদ (Surat ATM glitch)। কয়েক মিনিট পরে তাঁর ফোনে মেসেজ আসে, অ্যাকাউন্ট থেকে ইতিমধ্যেই কেটে নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা (ATM transaction failure)! এতে স্বাভাবিকভাবেই হতবাক হয়ে যান তিনি।
অভিযোগ করেও মিলল না সমাধান
৩ দিন পর, ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্যাঙ্ক অফ বরোদার (Bank of Baroda) ডুম্ভাল শাখায় লিখিত অভিযোগ জানান। এরপর মার্চ থেকে মে- টানা তিন মাস ই-মেল করে করে ব্যাঙ্ককে জানান সমস্যার কথা (SBI ATM error)। শুধু ব্যাঙ্ক নয়, বিষয়টি তিনি আরবিআই-তেও জানান এবং আরটিআই-এর (RTI) মাধ্যমে SBI-র কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনও জায়গা থেকেই পাননি সন্তোষজনক জবাব। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।অবশেষে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি উপভোক্তা আদালতের দ্বারস্থ হন।
ব্যাঙ্কের যুক্তি, আদালতের কড়া মন্তব্য
শুনানিতে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (Bank of Baroda) দাবি করে, এটিএম ছিল SBI-র, আর তাঁদের রেকর্ডে লেনদেন 'সফল' দেখাচ্ছে, তাই দায় তাদের নয়। কিন্তু কমিশন এই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, লেনদেনে কী ঘটেছিল তার পাকা প্রমাণ দিতে ব্যাঙ্ক ব্যর্থ হয়েছে। উপরন্তু, RBI–এর নিয়ম অনুযায়ী, এমন ক্ষেত্রে পাঁচ দিনের মধ্যেই টাকা ফেরত দেওয়া উচিত ছিল, যা ব্যাঙ্ক করেনি।
দীর্ঘ বিলম্বে ক্ষতিপূরণ প্রায় ৩.৩ লাখ টাকা
চূড়ান্ত রায়ে কমিশন ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেয়-
অর্থাৎ ১০ হাজার টাকার জায়গায় ব্যাঙ্ককে এখন গুণে গুণে দিতে হবে প্রায় ৩.৪ লাখ টাকা।
এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল, একটি ছোট ভুল ও ব্যাঙ্কের অবহেলা সাধারণ গ্রাহকদের জীবনে কত বড় ভোগান্তি ডেকে আনতে পারে; আবার ধৈর্য ও আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত ন্যায় এনে দেয়।