যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে আরব দুনিয়ায় থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ মোদীর। কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 18 March 2026 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ভারত। বুধবার কুয়েতের (Kuwait) যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ (Sheikh Sabah Al-Khaled Al-Hamad Al-Mubarak Al-Sabah)-এর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি (Security Situation) এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা (Regional Stability) বজায় রাখার প্রশ্ন।
এক্সে (X, formerly Twitter) পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নিজে জানান, আসন্ন ঈদ (Eid) উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দুই নেতা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। তাঁর কথায়, “পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”
এই কথোপকথনের মধ্যেই ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কুয়েতের সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার (Territorial Integrity) উপর হামলার তীব্র নিন্দা করছে তারা। কারণ, চলতি সংঘাতের (Conflict) জেরে কুয়েতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইরান (Iran) একাধিক মিসাইল (Missile) ও ড্রোন (Drone) হামলা চালিয়েছে উপসাগরীয় (Gulf) অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি (Military Installations) ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো (Strategic Infrastructure) লক্ষ্য করে।
পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, কুয়েতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (Air Defence System) সক্রিয় রাখতে হয়েছে বারবার। সামরিক ও লজিস্টিকস (Logistics)-সংক্রান্ত এলাকাগুলিতেও প্রভাব পড়ছে এই হামলার।
সূত্রের খবর, আলোচনায় উঠে আসে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) নিরাপত্তার বিষয়টিও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর (Energy Corridor) হিসেবে পরিচিত এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল (Oil Supply) নিয়ে যাতায়াত করে একাধিক জাহাজ। মোদী স্পষ্ট বলেন, “এই প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল (Safe Navigation) নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” কারণ, এখানে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের (Energy Crisis) আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
দুই নেতাই একমত হয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ (Diplomatic Engagement) চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি, তবেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
এছাড়াও, কুয়েতে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian Community) নিরাপত্তা ও কল্যাণে (Safety and Wellbeing) সেখানকার নেতৃত্বের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের আবহে (War Situation) কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে ভারত—এটাই স্পষ্ট এই বৈঠক থেকে।