২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদের দুই কক্ষে সর্বদলীয় সহমতের ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিল পাশ হয়। সব দলের সম্মতিতে পাশ হওয়া ওই আইনে বলা হয়েছিল সংরক্ষণ চালু হবে লোকসভা এবং বিধানসভা গুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পর।

মহিলা সংরক্ষণ চালুর পথে কেন্দ্র!
শেষ আপডেট: 17 March 2026 10:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিধানসভা ও বিধান পরিষদগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ (women's reservation) চালু করতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই ব্যাপারে সংসদে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সভাপতিত্বে সর্বদলীয় বৈঠক চায় কংগ্রেস (Congress)। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge) সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজুকে (Kiren Rijiju) জবাবি চিঠিতে দলের এই অভিমতের কথা জানিয়েছেন।
রিজিজু গত সপ্তাহে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়্গেকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন সরকার লোকসভা বিধানসভার সীমানা পুনর্বিন্যাসের আগেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায়।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদের দুই কক্ষে সর্বদলীয় সহমতের ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিল পাশ হয়। সব দলের সম্মতিতে পাশ হওয়া ওই আইনে বলা হয়েছিল সংরক্ষণ চালু হবে লোকসভা এবং বিধানসভা গুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পর। কিন্তু এখন সরকার চাইছে তার আগেই সংরক্ষণ চালু করে দিতে। স্বভাবতই এজন্য সংসদে একটি সংশোধনী বিল পেশ করে সংরক্ষণ এখনই চালু করার সিদ্ধান্ত মূল আইনের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এজন্য বিরোধীদের সঙ্গে সহমতের ভিত্তিতে এগোতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের তরফে সংসদীয় মন্ত্রী বিভিন্ন দলকে চিঠি দিয়েছেন।
সেই চিঠির জবাবেই রাজ্যসভার (Rajya Sabha) বিরোধী দলনেতা খাড়্গে সরকারকে জানিয়েছেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এই ব্যাপারে কীভাবে এগতে চায় সেই বিষয়ে তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে চান। রিজিজুকে লেখা চিঠিতে কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এজন্য সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক। সংসদীয় মন্ত্রী এই ব্যাপারে সরকারের বক্তব্য এখনও জানাননি।
জানা গিয়েছে, সরকারের ভাবনা হল, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের (Assembly Election 2026) পর এক তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ চালু করে দেওয়া। এজন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ২০২৩ সালেই সেরে রাখা হয়েছে। ওই বছর নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম বিল সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাশ করানো হয়।
তখন ঠিক হয়েছিল, ২০২৯ সালে ওই আইন অনুযায়ী সংসদে এবং রাজ্য বিধানসভা ও বিধান পরিষদগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ চালু করা হবে। ততদিনে জণগণনা এবং লোকসভা ও বিধানসভাগুলির নতুন করে সীমানা পুনর্গঠন বা ডিলিমিটেশনের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু সরকার এখন মনে করছে, জনগণনার কাজ শেষ হলেও ২০২৯- এর মধ্যে সীমানা পুনর্গঠন সম্পন্ন করা যাবে না। ফলে বহু বছরের জন্য মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি চাপা পড়ে যেতে পারে।
এখন তাই সরকারের ভাবনা হল সংরক্ষণ সংক্রান্ত অধিনিয়ম চালু করে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিধানসভা ও বিধান পরিষদের এক তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য এখনই চিহ্নিত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আসনগুলি কোনও কারণে শূন্য হলে সেটা মহিলা প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা হবে।
যদিও বিরোধী নেতাদের একাংশ মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই ভাবনার পেছনে কাজ করছে, এক দেশ এক ভোট নীতি। ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন সময় থেকে এক দেশ এক ভোট ব্যবস্থা চালু করার ভাবনা আছে মোদী সরকারের। তার আগে সরকার মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ চালু করে নিতে চায় বলে মনে করা হচ্ছে। বস্তুত সেই কারণেই কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার দলনেতা খাড়্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠক চান। কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি বুঝে নিতে চায় সরকার মহিলা সংরক্ষণ বিল চালু করেই আপাতত থেমে যাবে নাকি এক দেশ এক ভোট ব্যবস্থার দিকেও অগ্রসর হবে। দ্বিতীয়টির বিষয়ে বিরোধী দল গুলির জোরালো আপত্তি আছে।
২০২৩-এ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলটি সংসদে আলোচনা সময়ে বিরোধীরা বারে বারে সেটি দ্রুত কার্যকর করার দাবি তুলেছিল। সরকার পক্ষেরও কেউ কেউ দাবি করেন, এই সংরক্ষণের বিষয়টি ফেলে রাখা ঠিক হবে না। মহিলাদের একাধিক সংগঠনে এই ব্যাপারে সরকারের কাছে জোরদার দাবি জানায়। সরকারের শীর্ষ মহল এখন মনে করছে, পূর্ব ঘোষণা থেকে সরে এসে এখনই সংরক্ষণ চালু করে দেওয়া যেতে পারে। তাতে সরকার, বিরোধী কোন পক্ষেরই ক্ষতি নেই।