ধর্ম পরিবর্তনের ৬০ দিন আগে জেলা শাসককে লিখিতভাবে জানাতে হবে। ধর্মান্তরের পর ২১ দিনের মধ্যে জানালে তবেই তা বৈধ হবে। কিছু বিরোধী সদস্যের অভিযোগ, এতে নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হয়।

মহারাষ্ট্র বিধানসভা
শেষ আপডেট: 17 March 2026 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্র বিধানসভায় (Maharashtra Assembly) সোমবার রাতে 'ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন বিল ২০২৬' (Freedom of Religion Bill 2026) পাস হয়েছে। এই নতুন আইনে জোর করে, প্রতারণা করে, লোভ দেখিয়ে বা বিয়ে করিয়ে ধর্মান্তর করালে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকার দাবি করেছে, এই আইন কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয় বরং জোরজবরদস্তি ধর্মান্তর ঠেকানোই লক্ষ্য।
জোর করে ধর্মান্তর করালে কী শাস্তি?
বিল কেন আনা হল? ফড়নবীসের ব্যাখ্যা
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস (Chief Minister Devendra Fadnavis) পরিষদে জানান,
"মহিলাদের প্রতারণা করে বিয়ে ও ধর্মান্তর করানোর বহু অভিযোগ সরকার পেয়েছে। ওড়িশা, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটকস-হ কয়েকটি রাজ্যে আগেই এমন আইন রয়েছে। সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা থাকলেও অন্যকে জোর করে ধর্মান্তর করানোর অধিকার নেই," সুপ্রিম কোর্টের রায় উদ্ধৃত করে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ধর্মান্তরের আগে ৬০ দিনের নোটিস- বিতর্কের কেন্দ্র
বিল অনুযায়ী,
ধর্ম পরিবর্তনের ৬০ দিন আগে জেলা শাসককে লিখিতভাবে জানাতে হবে। ধর্মান্তরের পর ২১ দিনের মধ্যে জানালে তবেই তা বৈধ হবে। কিছু বিরোধী সদস্যের অভিযোগ, এতে নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হয়। তবে সরকার বলেছে, “এটি শুধু স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর হয়েছে কিনা কেবল তা যাচাই করার জন্য।”
অভিযোগ কে করতে পারবে?
সরকারের বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ভয় বা চাপের জন্য অভিযোগ করতে পারেন না, তাই এই ব্যবস্থা।
মহিলা, নাবালক ও SC/ST-এর সুরক্ষায় বিশেষ জোর
মন্ত্রী পঙ্কজ ভোয়ার জানান, এই বিলের মূল লক্ষ্য হল- মহিলা, নাবালক, তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের জোর করে বা প্রতারণায় ধর্মান্তর থেকে রক্ষা করা।
বিরোধীদের দাবি ও সমর্থন
শিবসেনা (UBT) এই বিলকে সমর্থন করেছে। দলের বিধায়ক ভাস্কর যাদব বলেন, “আইনটি কোনও ধর্মকে নিশানা করছে না। অসৎ ধর্মান্তর রুখতেই এই উদ্যোগ।” তবে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও কিছু বিরোধী বিধায়ক অভিযোগ তুলেছেন, বিলটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার উপর হস্তক্ষেপ করছে, সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ২১ ধারার বিরোধী। ভবিষ্যতে 'ভিজিলান্টিজম'-এর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে
শেষ পর্যন্ত কী হল?
তর্ক-বিতর্কের পর ধ্বনি ভোটে বিল পাস হয়। বিরোধীরা যৌথ নির্বাচনী কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি তুললেও তা গৃহীত হয়নি।