মৃতের স্ত্রী এবিষয়ে কিছু জানেন না। তিনিও খানিকটা অবাক। প্রশ্ন উঠছে, বাচ্চাকে নিয়ে কেন আত্মহত্যা করতে গেলেন!

দিল্লির আবাসন
শেষ আপডেট: 17 March 2026 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে দু’বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে বহুতলের ২৩ তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন এক ব্যক্তি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাবা ও মেয়ের। সোমবার সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় সেক্টর ১০২ (Sector 102) এলাকার একটি আবাসনে। মৃত ব্যক্তির নাম রাহুল বিজয়ারণ (Rahul Vijayran)। বয়স ৩৫ বছর। মেয়ের নাম ভামিকা (Vamika)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল বিজয়ারণ (Rahul Vijayran) দিল্লির নাংলোই (Nangloi) এলাকার বাসিন্দা। তিনি টাওয়ার ৯ (Tower 9)-এ থাকতেন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, তিনি ঝাঁপ দিয়েছেন আবাসনের অন্য একটি ভবন, অর্থাৎ টাওয়ার ৫ (Tower 5)-এর ২৩ তলা থেকে। এই কারণেই ঘটনাটি ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ। তখন বাড়িতে রান্না করছিলেন রাহুলের স্ত্রী নীতু দাহিয়া (Neetu Dahiya)। সেই সময় রাহুল তাঁদের দু’বছরের মেয়ে ভামিকা (Vamika)-কে নিয়ে আবাসনের পার্কে খেলতে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি শিশুকে কোলে নিয়েই টাওয়ার ৫ (Tower 5)-এর ২৩ তলায় উঠে যান। এরপর সেখান থেকেই নীচে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।
হঠাৎ চিৎকার ও হইচই শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন নীতু দাহিয়া (Neetu Dahiya)। বাইরে এসে তিনি দেখেন, এক ব্যক্তি ও একটি ছোট মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে। আবাসনের বাসিন্দারা তড়িঘড়ি দু’জনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল বিজয়ারণ (Rahul Vijayran)-এর বিয়ে হয়েছিল ২০১৪ সালে। তাঁদের আর একটি ১১ বছরের মেয়ে রয়েছে। সে দেরাদুন (Dehradun)-এর একটি স্কুলের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে।
মৃতের ভাই অমিত (Amit) পুলিশকে জানিয়েছেন, গত দু’মাস ধরে রাহুল ওই আবাসনে থাকছিলেন। তিনি দিল্লির কিরারি (Kirari) এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুল চালাতেন। পরিবারের দাবি, কোভিড-১৯ (COVID-19) সংক্রমণের পর রাহুলের চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। একটি চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং অন্য চোখেও আংশিক দৃষ্টি ছিল। এই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
তবে ঘটনায় এখনও রহস্য রয়ে গিয়েছে। কারণ, তিনি নিজের টাওয়ারে না গিয়ে অন্য টাওয়ার থেকে কেন ঝাঁপ দিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সাব-ইনস্পেক্টর জগমল সিং (Sub Inspector Jagmal Singh) জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট (Suicide Note) পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও আপাতত কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়নি। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।