ওই প্রৌঢ়ের দুই ছেলে কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। এসআইআর শুনানির নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, তাঁর আশঙ্কা ছিল - হঠাৎ করে কাজ ছেড়ে কীভাবে ছেলেরা বাড়ি ফিরে এসে কমিশনের শুনানিতে হাজিরা দেবেন।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের হরিশচন্দ্রপুর (Maldah Harischandrapur) বিধানসভা কেন্দ্রে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ একযোগে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস (SIR Hearing Notice) পাওয়ার পর থেকেই জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই এক প্রৌঢ়ের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে যখন ইতিমধ্যেই বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই আবহে মালদহের (Maldah Incident) এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল গোটা প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রৌঢ়ের দুই ছেলে কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। এসআইআর শুনানির নোটিস (SIR Hearing Notice) হাতে পাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, তাঁর আশঙ্কা ছিল - হঠাৎ করে কাজ ছেড়ে কীভাবে ছেলেরা বাড়ি ফিরে এসে কমিশনের শুনানিতে হাজিরা দেবেন। সেই দুশ্চিন্তা থেকেই সোমবার তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের এক সদস্যের অভিযোগ, “বিজেপি (BJP) এবং নির্বাচন কমিশন (ECI) পরিকল্পিত ভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে ভয় তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ মারা যাচ্ছেন, কোথাও আবার আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। এর দায় বিজেপি ও কমিশন কেউ এড়াতে পারে না।” এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যজুড়ে বিএলও-সহ (BLOs) প্রায় ৮৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে বলে বিরোধীদের দাবি। সেই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র তরজা চলছে। তারই মধ্যে মালদহের এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এসআইআর নিয়ে জনমানসে আতঙ্ক তৈরির জন্য একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই দায়ী। বিজেপির দাবি, শাসক দল মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। এসআইআর একটি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া বলেই বিজেপির বক্তব্য।
তবে রাজনৈতিক তরজার বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক মহলও স্বীকার করছে, শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রেই লক্ষাধিক মানুষের কাছে শুনানির নোটিস পৌঁছনোর বিষয়টি স্বাভাবিক নয় এবং তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। এত বিপুল সংখ্যক নোটিস কীভাবে জারি হল, তার বাস্তব প্রভাব কী - এই সব প্রশ্নই এখন মালদহের রাজনীতির কেন্দ্রে।
এসআইআর ঘিরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।