হোয়াটসঅ্যাপের (Whats App) মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 19 January 2026 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটসঅ্যাপের (Whats App) মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant) বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপে কোনও নির্দেশ চালানো যাবে না। আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করতেই হবে।” বিচারপতি বাগচির বক্তব্য, “এক কোটিরও বেশি মানুষ নোটিস (SIR Hearing) পেয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের উপর যে মানসিক চাপ পড়ছে, তা বুঝতে হবে।”
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR News) মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ‘হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা’ ও কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়াই চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই মর্মে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) কড়া চিঠিও পাঠান তিনি।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার (Circular) বা আইনি নির্দেশ ছাড়াই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠছে। এই ধরনের অনিশ্চয়তা ভোটারদের নাম অকারণে বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করেন মমতা।
যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সেই চিঠির কোনও জবাব দেয়নি কমিশন। বরং সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, এসআইআর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশ চালানো যাবে না। আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করতেই হবে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR West Bengal) সময় যাঁদের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
নোটিসের সংখ্যা বিপুল হওয়ায় আদালতের নির্দেশ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical discrepancies) তালিকাভুক্ত ভোটারদের নাম গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে টাঙাতে হবে। ওই তালিকার বিরুদ্ধে ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানো যাবে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য বাড়তি সময়ও দিতে হবে।
আদালত স্পষ্ট করেছে, নথি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে স্বশরীরে বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শুনানির সুযোগ দিতে হবে। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে (State Government) পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বন্দোবস্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জমা দেওয়া নথির রসিদ দিতে হবে এবং আপত্তি নিষ্পত্তির কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।