সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসতেই ফের একবার এই 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' (logical discrepancies) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ আগেই কমিশন জানিয়েছিল যে, যাদের তথ্য অসঙ্গতি থাকবে তাদেরই নোটিস পাঠানো হবে; সেই মতো পাঠানোও হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' (Logical Discrepancies) ইস্যুতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) কার্যত ধাক্কা খেয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। কারণ শীর্ষ আদালত এর তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই সরব হয়েছিল। তাই এই নির্দেশের পর তাঁরা এটাকে নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) তো বলেই দিয়েছেন যে, এখন বিজেপিকে তাঁরা কোর্টে হারালেন, এপ্রিলের নির্বাচনে ভোটে হারাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসতেই ফের একবার এই 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' (Logical Discrepancies) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ আগেই কমিশন জানিয়েছিল যে, যাদের তথ্য অসঙ্গতি থাকবে তাদেরই নোটিস পাঠানো হবে; সেই মতো পাঠানোও হচ্ছে। এই আবহে সুপ্রিম কোর্ট যা বলেছে তারপর এদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। পাশাপাশি কোর্টের তরফে শুনানির সময় কারও কাছ থেকে নথি জমা নেওয়া হলে, তার স্বীকৃতি হিসেবে রসিদ দেওয়াও বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' কী
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (West Bengal SIR) প্রক্রিয়ায় যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, সেই ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের কাছে নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন। তবে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' (Logical Discrepancies) মানেই নাম বাতিল, এমন নয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী ধরনের অসঙ্গতি
কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, অসঙ্গতিগুলি এক ধরনের নয়। তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক, বয়সের ব্যবধান ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল। ভাঙা হিসাব বলছে -
বাবার নামের গরমিল: ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের
মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম: ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারের
মা–বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ৫০ বছর বা তার বেশি: ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের
ঠাকুরদা ও নাতি–নাতনির বয়সের ফারাক মাত্র ৪০ বছর: ২ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের
‘প্রোজেনি ৬’ (একজন ভোটারের সঙ্গে ছয় জন উত্তরাধিকারীর নাম যুক্ত): ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোটারের
নির্বাচন কমিশনের এক সূত্রের বক্তব্য, এই ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজারের মধ্যেই রয়েছেন সেই সব ভোটার, যাঁদের বয়স ৪৫ হলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় শুরুতে নাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের। তবে সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, তথ্যগত ‘অসঙ্গতি’র সংখ্যা আর ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নেই। তা নেমে এসেছে ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজারে।