চলতি সমস্যা প্রশমনের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক পথই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে, এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে ভারত।পাশাপাশি, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতই একমাত্র দেশ, যারা তাদের নাবিকদের হারিয়েছে - এই বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর একমাত্র পথ কূটনীতি, বার্তা ভারতের
শেষ আপডেট: 3 April 2026 07:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমুজ প্রণালী এখন যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু, আর সেই সংকটের মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি ভারতের। সংঘাতপ্রবণ এই জলপথে একমাত্র ভারতই নিজের নাবিক হারিয়েছে (India Hormuz Strait Mariners Lost), জানিয়ে সরাসরি চাপ বাড়াল দিল্লি। একইসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা, এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর একমাত্র পথ কূটনীতি (India diplomacy in Iran war)।
আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী (Hormuz) ঘিরে উদ্বেগ বাড়তেই তা পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে ভারত। ব্রিটেনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বহুপাক্ষিক বৈঠকে (Iran War meeting UK) এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল্লি। ওই বৈঠকে ৬০টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়। সেখানে আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে ভারত (India Iran Conflict Energy Security Talks)।
ভারতের পক্ষে ভার্চুয়াল এই বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। তিনি জানান, চলতি সংঘাত প্রশমনের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক পথই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে, এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সংকট ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ভারতই একমাত্র দেশ, যারা তাদের নাবিকদের হারিয়েছে - এই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
চলমান পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাবের কথা তুলে ধরে মিস্রি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই অঞ্চলের অস্থিরতা বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি করছে।
বিদেশ মন্ত্রক আরও জানায়, এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হল উত্তেজনা কমানো এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কূটনীতি ও আলোচনার পথে ফেরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলিতে কর্মরত অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন।
হরমুজ নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠকে ভারতের যোগ
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার উপায় খুঁজতে ব্রিটেনে আয়োজিত ৬০টিরও বেশি দেশের বৈঠকেও অংশ নেয় ভারত। এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেই এই বৈঠক হয়। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত বারবার এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয়রা
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সমস্ত দেশেই থাকা ভারতীয়রা আপাতত নিরাপদে আছেন এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলি তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে আটজন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রক, জাহাজ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ চলছে। উপসাগরীয় অঞ্চল, চলতি সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত সমস্ত পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও, ইরান থেকে স্থলপথে আজারবাইজানের মাধ্যমে ২০৪ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে ভারত। আগামী দিনে আরও অনেকে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে আজারবাইজান সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছে ভারত।