হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই ভারতকে আশ্বস্ত করল ইরান। জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হবে না বলেই বার্তা দিল তেহরান।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই ভারতকে (India) আশ্বস্ত করল ইরান (Iran)। “ভারতীয় বন্ধুরা নিরাপদ হাতেই আছেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই” বৃহস্পতিবার এক্সে পোস্ট করে জানাল ভারতে ইরান দূতাবাস (Embassy of Iran in India)।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইজরায়েল (Israel) তেহরানে (Tehran) সামরিক হামলা চালানোর পর থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। তার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ কার্যত বিঘ্নিত। বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি (Global Energy Supply) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সংঘাতের পর থেকে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজকে হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে ইরান। তবে তারা জানিয়েছে, “বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ” (Friendly Nations) যেমন ভারত, চিন (China), রাশিয়া (Russia), ইরাক (Iraq) ও পাকিস্তান (Pakistan)-কে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
তবু পরিস্থিতির জেরে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে (Energy Supply) বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮টি ভারতীয় জাহাজ (Indian Ships) হরমুজ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি এলপিজি (LPG) ক্যারিয়ার- BW TYR এবং BW ELM, যেগুলিতে প্রায় ৯৪ হাজার টন গ্যাস রয়েছে। অন্যদিকে, এখনও অন্তত ১৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই জাহাজগুলিতে রয়েছে এলপিজি, অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), যা ভারতের জন্য নির্ধারিত।
৩০ মার্চ এক আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকে (Inter-Ministerial Briefing) বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের (Ministry of Ports, Shipping and Waterways) বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা (Rajesh Kumar Sinha) জানান, বিদেশি পতাকাবাহী (Foreign-flagged) ১০টি জাহাজ এখনও আটকে। এর মধ্যে ৩টি এলপিজি, ৪টি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার এবং ৩টি এলএনজি ক্যারিয়ার রয়েছে।
এছাড়াও ভারতীয় পতাকাবাহী (Indian-flagged) একাধিক জাহাজও এই জটের মধ্যে পড়েছে, ৩টি এলপিজি ট্যাঙ্কার, ১টি এলএনজি ক্যারিয়ার এবং ৪টি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার। এমনকি একটি খালি ট্যাঙ্কারেও বর্তমানে এলপিজি ভরা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০টি জাহাজ এই সরু জলপথে (Narrow Strait) সংঘাতের কারণে আটকে পড়েছিল। ইরানের আশ্বাস সত্ত্বেও, হরমুজ ঘিরে অনিশ্চয়তা যে এখনও কাটেনি, তা স্পষ্ট।