হরমুজ প্রণালী খুলতে শক্তি প্রয়োগের পথে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আমেরিকার সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বাড়ছে উদ্বেগ।

হরমুজ প্রণালী (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 1 April 2026 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। এবার ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) খুলতে শক্তি প্রয়োগের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও তার মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে সামরিক পদক্ষেপে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা, এমনই দাবি করছে এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যম।
এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে পারস্য উপসাগরীয় (Persian Gulf) অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে ইউএই। কোনও কিছুতে না থেকেও এমনই আমেরিকার সঙ্গে মিত্রতার জেরে ইরানের (Iran) হামলার মুখে পড়েছে দেশটি। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সক্রিয় কূটনীতি শুরু করেছে আবুধাবি (Abu Dhabi)।
ইউএই এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (United Nations Security Council) একটি প্রস্তাব আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অনুমোদন পাওয়া যায়। পাশাপাশি আমেরিকা ও ইউরোপ-এশিয়ার (Europe-Asia) সামরিক শক্তিধর দেশগুলিকে নিয়ে একটি জোট (Coalition) গঠনের আর্জিও জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইউএই মনে করছে ইরান এই সংঘাতকে অস্তিত্বের লড়াই (Existential Conflict) হিসেবে দেখছে। তাই বিশ্ব অর্থনীতিকে ধাক্কা দিতে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট বন্ধ করে দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপেও যেতে পারে তেহরান (Tehran)।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) মিত্র দেশগুলির ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর মন্তব্য, “নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেরাই করুক।” হরমুজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার কাজ নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান (Military Operation) আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কমিয়ে আনা হতে পারে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। বর্তমানে সেই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম (Energy Prices) বেড়েছে, বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) আশঙ্কাও। আমেরিকায় পেট্রলের দাম ইতিমধ্যেই গ্যালন প্রতি ৪ ডলার (USD 4 per gallon) ছাড়িয়েছে। বুধবার বেড়েছে অ্যাভিয়েশন ফুয়েলের দাম। চারিদিকে এলপিজি নিয়ে হাহাকার।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ মার্কিন বাহিনী ইরানের ইসফাহানে (Isfahan) হামলা চালিয়েছে সম্প্রতি, অন্যদিকে ইরান পারস্য উপসাগরে (Persian Gulf) একটি কুয়েতি (Kuwaiti) তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে। এই টানাপোড়েনে ইউএই-ই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।