পশ্চিম এশিয়ায় চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে নতুন করে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে কেন্দ্র করে এবার নতুন দাবি তুলেছে ইরান (Iran News), যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

শেষ আপডেট: 29 March 2026 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে নতুন করে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে কেন্দ্র করে এবার নতুন দাবি তুলেছে ইরান (Iran News), যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ থামাতে হলে হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক পদক্ষেপে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বহু দেশ বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব কম খরচে এবং তুলনামূলক সহজ উপায়ে ইরান বুঝতে পেরেছে যে, এই প্রণালীকে ব্যবহার করে তারা গোটা বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইরান এখন এই কৌশলকে স্থায়ী অর্থনৈতিক উৎসে পরিণত করতে চাইছে। তারা পরিকল্পনা করছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলির কাছ থেকে টোল বা ট্রানজিট ফি নেওয়ার। হিসেব অনুযায়ী, যদি প্রতি তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে প্রায় ২০ লক্ষ ডলার করে নেওয়া হয়, তাহলে মাসে প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে—যা মিশরের সুয়েজ খালের আয়ের সঙ্গে তুলনীয়।
তবে এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনও দেশ একতরফাভাবে টোল চাপাতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবকে “অবৈধ, বিপজ্জনক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছে এবং জি৭ দেশগুলিও মুক্ত ও নিরাপদ নৌচলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে যে, “অ-শত্রুভাবাপন্ন” জাহাজগুলিকে তারা চলাচলের অনুমতি দেবে, তবে তা তাদের শর্তসাপেক্ষে। ইতিমধ্যে কিছু জাহাজ ইরানের কাছাকাছি পথ ব্যবহার করছে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে নিরাপদ যাত্রার জন্য অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলেও রিপোর্ট সামনে এসেছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন এক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। যদি ইরান তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে তা শুধু পশ্চিম এশিয়াই নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।