অভিযুক্তরা মূলত ট্রেনিং টিমের অংশ ছিল। ফলে নতুন যোগ দেওয়া কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য, পারিবারিক অবস্থা ও আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত ধারণা থাকত।
.jpg.webp)
ছবি- এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 15 April 2026 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাসিকের টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের (TCS) ‘ধর্মান্তর ও হেনস্থা'-র অভিযোগের তদন্তে এবার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য (Nashik TCS Case)। পুলিশি যাতে পেরেছে, এই পুরো ঘটনায় ছিল সুপরিকল্পিত টার্গেটিং, যেখানে বিশেষ করে অর্থকষ্টে থাকা বা পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত নতুন কর্মীদেরই নিশানা বানানো হত। ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করে তাঁদের জীবনযাপন বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হত, এমনই অভিযোগ।
কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা মূলত ট্রেনিং টিমের অংশ ছিল। ফলে নতুন যোগ দেওয়া কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য, পারিবারিক অবস্থা ও আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত ধারণা থাকত। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বেছে নেওয়া হত ‘সহজ টার্গেট’, যারা টাকার প্রয়োজন আছে বা মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
প্রথমে অপমান, তারপর ‘সহানুভূতি’!
অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রেনিং চলাকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে হিন্দু দেবদেবীদের (Hindu God) নিয়ে কটূক্তি করা হত। এতে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেলে, তখনই সামনে আসতেন এইচআর ম্যানেজার নিদা খান। তিনি সহানুভূতির ভান করে ওই কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করতেন।
এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের জীবনযাত্রা, পোশাক, এমনকি চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হত। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এক ক্ষেত্রে এক তরুণী এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে দেবদেবীর সব ছবি সরিয়ে ফেলেন।
গ্রেফতার ৭, তদন্তে আরও চাঞ্চল্য
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে, আসিফ আনসারি, শাফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রেজা মেমন ও তৌসিফ আত্তার। পুরো ঘটনার পেছনে একটি সংগঠিত চক্র কাজ করছিল বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের।
কীভাবে ফাঁস হল এই চক্র?
এই চক্র ধরতে পুলিশ চালায় এক গোপন অভিযান। মহিলা পুলিশ কর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ছদ্মবেশে অফিসে ঢুকে কয়েকদিন ধরে নজরদারি চালান। বাইরের সংস্থার মাধ্যমে হাউসকিপিং কর্মী নিয়োগ করা হয় বলে এই পরিকল্পনা সহজেই কার্যকর করা যায়। কিছু পুরুষ পুলিশও একইভাবে ছদ্মবেশে ছিলেন। তাঁদের রিপোর্টে উঠে আসে দলনেতা হিসেবে থাকা কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা (Nashik TCS sexual harassment), ধর্ষণ, ভয় দেখানো এবং জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা করার অভিযোগ।
পুলিশ প্রথমে গ্রেফতার করে দানিশ শেখকে। অভিযোগ, তিনি এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান এবং নিজের বিবাহিত পরিচয় গোপন করেন। এরপর ক্রমে সামনে আসে আরও অভিযোগ। ১৮-২৫ বছরের তরুণী কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, আপত্তিজনক আচরণে সায় না দিলে কাজের চাপ বাড়ানো হতো, ব্যক্তিগত মন্তব্য করা হত এবং ভয় দেখিয়ে ভিন্ন ধর্মের রীতি মানতে বাধ্য করা হত।
তদন্তকারীরা বলছেন, কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে মালয়েশিয়া-নিবাসী প্রচারক 'ইর্মান'-এর যোগ পাওয়া গেছে। তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে অভিযোগ।
মামলার তদন্তে গঠিত হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। অভিযুক্তদের ব্যাঙ্কের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিদেশি ফান্ডিং আছে কি না তা জানতে। ইতিমধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ- কর্মস্থলে নিরাপত্তা, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা ও কর্পোরেট সংস্কৃতির দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।