শাসনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যুকে ঘিরে রাস্তায় দেহ ফেলে বিক্ষোভ। দেহ তোলার চেষ্টা করতেই পুলিশের উপর চড়াও বিক্ষোভকারীরা, এলাকায় রণক্ষেত্র পরিস্থিতি।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 9 February 2026 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাসনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক রাজমিস্ত্রির। ক্ষতিপূরণের দাবিতে দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায় পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা। রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ হস্তক্ষেপ করতেই রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাধ্য হয়ে পুলিশ লাঠি চার্জ করে। পাল্টা তাদের উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মৃত রাজমিস্ত্রির নাম সইফুল ইসলাম (Saiful Islam)। এদিন তিনি একটি বাড়িতে কাজ করছিলেন। অভিযোগ, কাজের জায়গার ঠিক উপরে থাকা বিদ্যুৎবাহী তারে হাত লেগে প্রবল বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সইফুল। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
এরপরই এলাকার মানুষ মৃতদেহ আটকে রেখে ক্ষতিপূরণের দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ তোলার চেষ্টা করতেই ক্ষোভ আরও চড়ে যায়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের উপর চড়াও হন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যেতে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।
এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, আটকদের নিয়ে যেতে গেলে স্থানীয় তৃণমূল (TMC) নেতাকর্মীদের একাংশ থানার গাড়ি ঘিরে ধরে। ধস্তাধস্তির মাঝে আটক পাঁচজনকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এবার এই ঘটনার জেরে আরও এক দফা উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
পরে বারাসত জেলা পুলিশের (Barasat District Police) বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভ সরাতে মৃদু লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ধরার জন্য এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে বারাসত জেলা পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, বাড়ি তৈরির সময়ে বিপজ্জনকভাবে নিচু দিয়ে তার টানা ছিল। আবার পুলিশের দাবি, ক্ষতিপূরণের দাবিতে ইচ্ছাকৃতভাবে দেহ আটকে পরিস্থিতি অস্থির করেছে ওরা। ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও বিক্ষোভের দাপটে দিনভর শাসন কার্যত থমকে যায়।