হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 September 2025 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের শিরোনামে গরু পাচারের ঘটনা (Cattle Smuggle)। এবার ঘটনাস্থল উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর (Uttar Pradesh Gorakhpur)। আর এই ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। গরু পাচারকারীদের (Cattle Smuggles) হাতে খুন হয়েছেন ১৯ বছরের এক তরুণ। নিহতের নাম দীপক গুপ্তা। সে একজন নিট পরীক্ষার্থী (NEET Aspirant) ছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মীও (Policemen) আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং পিএসি (PAC) বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।
কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটে ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে। গোরক্ষপুরের জঙ্গলধুসার গ্রামে দীপকের পরিবারের একটি গোডাউন থেকে গরু পাচারের (Cattle Smuggle) চেষ্টা করে ১০-১২ জনের একটি দল। তারা তিনটি গাড়িতে করে এসেছিল। দীপকের এক তুতো ভাই প্রথম পাচারকারীদের দেখতে পেয়ে তাঁকে খবর দেয়। খবর পেয়ে দীপক দেরি না করে তাঁর স্কুটারে ১০-১৫ জন গ্রামবাসীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সেখানে পাচারকারীদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের সময় পাচারকারীরা দীপককে ধরে তাদের একটি মালবাহী গাড়িতে তুলে নেয় এবং পরে কয়েক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে খুন করে দেহ ফেলে দেয়। দীপকের দেহ তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সরাইয়া গ্রামের কাছে পাওয়া যায়।
মৃত্যু ঘিরে রহস্য
দীপকের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে গ্রামবাসী এবং পুলিশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, পাচারকারীরা দীপককে গুলি করে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাঁকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয় এবং মাথায় আঘাত লাগার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) রাজ করণ নায়ার বলেছেন, "মানুষজন গুলি চলার কথা বলছে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে না যে, গুলির কারণে কোনও আঘাত লেগেছে।" তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পাঁচটি পুলিশ টিম গঠন করা হয়েছে। গ্রামে এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে এবং শীঘ্রই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিক্ষোভ-বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
মঙ্গলবার সকালে দীপকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গোরক্ষপুর-পিপ্রাইচ রোড অবরোধ করে। এর ফলে বহুক্ষণ ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রামবাসীরা একটি পাচারকারীর গাড়ি আটক করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং এক সন্দেহভাজনকে ধাওয়া করে মারধর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশকে গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। গ্রামবাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে, যার ফলে এসপি (নর্থ) জিতেন্দ্র শ্রীবাস্তব এবং পিপ্রাইচ থানার ইন-চার্জ পুরুষোত্তম আহত হন। পরে চারটি থানার পুলিশ এবং একটি পিএসি (PAC) ইউনিট ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গ্রামবাসীরা এখনও সুবিচারের দাবিতে অনড়। এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।