Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রে

৯/১১-র সেই দুঁদে গোয়েন্দা রবার্ট মুলারের প্রয়াণে 'উচ্ছ্বসিত' ট্রাম্প, বললেন, 'খুব খুশি হয়েছি'

৯/১১-র সময় FBI ডিরেক্টর রবার্ট মুলারের মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তাঁর মন্তব্য ঘিরে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক।

৯/১১-র সেই দুঁদে গোয়েন্দা রবার্ট মুলারের প্রয়াণে 'উচ্ছ্বসিত' ট্রাম্প, বললেন, 'খুব খুশি হয়েছি'

ছবি: দ্য ওয়াল

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 22 March 2026 11:09

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯/১১-র হামলার সময়ে তিনি ছিলেন FBI-এর ডিরেক্টর। একের পর এক কঠিন তদন্তের দায়িত্ব সামলানো দুঁদে গোয়েন্দা রবার্ট সোয়ান মুলার (Robert Mueller) আর নেই। শুক্রবার ৮১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের তরফে এই খবর নিশ্চিত করা হলেও কোথায় এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। তবে রবার্ট মুলারের মৃত্যুতে শোক নয়, উল্টে প্রকাশ্যে উল্লাস দেখিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘অবশেষে মরেছে, খুব খুশি হয়েছি।’ এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে।

৯/১১-র অন্ধকার সময়ের নেতৃত্বে মুলার

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর—আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে কালো দিন। জঙ্গিদের হামলায় ভেঙে পড়ে টুইন টাওয়ার, আছড়ে পড়ে জোড়া বিমান। শুধু আমেরিকা নয়, কেঁপে ওঠে গোটা বিশ্ব। সেই ভয়াবহ হামলার ঠিক এক সপ্তাহ আগে FBI-এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবার্ট সোয়ান মুলার।

এরপর টানা ১২ বছর অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে সংস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বদলে দিয়েছেন FBI-এর কাঠামো ও কাজের ধরন। টুইন টাওয়ার হামলার আগে পর্যন্ত FBI মূলত অপরাধমূলক তদন্ত সংস্থা হিসেবেই কাজ করত। মুলারের হাত ধরেই সংস্থায় আসে সন্ত্রাস মোকাবিলার নতুন রূপরেখা এবং গড়ে ওঠে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের কথায়—মুলার ছিলেন সৎ, নিরপেক্ষ এবং কঠোর পেশাদার। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে FBI থেকে অবসর নেন তিনি।

মৃত্যুতে শোক নয়, উল্লাস ট্রাম্পের

সাধারণত কোনও মৃত্যুই আনন্দের বিষয় নয়। কিন্তু রবার্ট মুলারের মৃত্যুতে কোনও সংযম দেখাননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘খুব ভালো হয়েছে। মুলার মারা গিয়েছেন, আমি খুব খুশি হয়েছি। আর তিনি নির্দোষ মানুষদের ক্ষতি করতে পারবেন না।’ এখানে ‘নির্দোষ মানুষ’ বলতে আসলে নিজেকেই বোঝাতে চেয়েছেন ট্রাম্প, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রিপাবলিকান হয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব

মুলার মতাদর্শগতভাবে রিপাবলিকান সমর্থক ছিলেন এবং জনসমক্ষে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিতেও দ্বিধা ছিল না তাঁর। অর্থাৎ ট্রাম্পের দলই তাঁর রাজনৈতিক ঘরানা। তবে তিনি কখনও সক্রিয় রাজনীতিতে নামেননি এবং গড়পড়তা রিপাবলিকানদের তুলনায় কিছুটা উদারপন্থী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে আপস ছিল না তাঁর ধাতে।

রাশিয়া তদন্তেই সম্পর্কের অবনতি

২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পরই অভিযোগ ওঠে, ভোটে রাশিয়া কলকাঠি নেড়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তখনই শোরগোল শুরু হয়।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার এবং রাশিয়ার মধ্যে গোপন যোগাযোগের তদন্ত করছিলেন তৎকালীন FBI ডিরেক্টর জেমস বি কমি। তদন্তের চাপ বাড়তে থাকায় ট্রাম্প তাঁকে বরখাস্ত করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরের দিন ওভাল অফিসে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তিনি বলেছিলেন, ‘FBI-এর ডিরেক্টরিকে বরখাস্ত করেছি। পুরো উন্মাদ ছিল। রাশিয়া নিয়ে খুব চাপে ছিলাম, এখন কিছুটা হালকা লাগছে।’

স্পেশাল কাউন্সিল হয়ে ফেরেন মুলার

তবে সেখানেই শেষ হয়নি বিতর্ক। জেমস কমির জায়গায় তদন্তভার দেওয়া হয় রবার্ট সোয়ান মুলারকে। তখন তিনি FBI থেকে অবসর নিয়েছেন। তবু তাঁর দক্ষতার কথা মাথায় রেখে মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁকেই স্পেশাল কাউন্সিল হিসেবে নিয়োগ করে। এই সিদ্ধান্তে নাকি প্রবল ধাক্কা খেয়েছিলেন ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছিলেন, ‘ওহ মাই গড! এ বার কী হবে? আমার প্রেসিডেন্টের কুর্সি গেল।’ শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানদের সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণ করতে পারেননি মুলার। কিন্তু সেই তদন্তের পর থেকে ট্রাম্প ও মুলারের সম্পর্ক আর কোনও দিন স্বাভাবিক হয়নি।
 


```