মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে সরব হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকাকে নিশানা করেন। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সীকে প্রার্থী না করার বিষয়টি তুলে ধরে কটাক্ষ করেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী এবং সুব্রত বক্সী
শেষ আপডেট: 5 March 2026 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে এদিন ছিল বাংলা থেকে রাজ্যসভার আসনের (Rajya Sabha Elections 2026) জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। আর এই আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) তাঁদের চার প্রার্থীকে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। দলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছে কোয়েল মল্লিক, রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামী এবং বাবুল সুপ্রিয়োকে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও দীর্ঘ টানাপড়েনের পর মনোনয়ন জমা দেন রাহুল সিনহা।
এই মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে সরব হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকাকে নিশানা করেন। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সীকে (Subrata Bakshi) প্রার্থী না করার বিষয়টি তুলে ধরে কটাক্ষ করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই জল্পনা ছিল, তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা সুব্রত বক্সীকে আবারও রাজ্যসভার প্রার্থী করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ফলে এবারের তালিকায় তাঁর নাম থাকবে বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই প্রসঙ্গেই বিরোধী দলনেতা মন্তব্য করেন, তৃণমূল নেতৃত্ব আসলে দলের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ধীরে ধীরে সরিয়ে দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বহু বছর ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একজন নেতাকে এবার কার্যত বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দুর দাবি, সুব্রত বক্সী এখনও সক্রিয় এবং শারীরিকভাবে সক্ষম। তবুও তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। তাঁর মতে, নতুন কয়েক জনকে জায়গা করে দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, বাইরে থেকে কেউ প্রশ্ন করলে হয়তো বক্সী নিজেই বলবেন যে তিনি প্রার্থী হতে চাননি। কিন্তু বাস্তবে তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি বলেই তাঁর দাবি।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। কিছু দিন আগে থেকেই বক্সীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। অনেকের প্রশ্ন ছিল, তিনি এবার সংসদীয় দায়িত্ব পালন করবেন কি না। সেই কারণেই হয়তো তাঁর নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় কয়েকটি নতুন মুখ সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্ক নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুকেই সামনে এনে এখন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছে বিজেপি।
রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও তর্ক-বিতর্ক বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
উল্লেখ্য, এদিন বিধানসভায় এসে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে তিনি বলেন, “দারুণ অভিজ্ঞতা, আজ তো যাত্রা শুরু হল। কেরিয়ারের ২২ বছর মানুষের আশীর্বাদেই কাটিয়েছি। এখন এটাই প্রার্থনা যে নতুন এই পথেও যেন সবার ভালবাসা সঙ্গে থাকে।” গ্ল্যামার জগৎ থেকে সংসদীয় রাজনীতির উচ্চকক্ষে প্রবেশের এই চ্যালেঞ্জকে হাসিমুখেই গ্রহণ করেছেন তিনি।
পাশাপাশি তৃণমূলের অন্য এক হেভিওয়েট প্রার্থী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই নিজের প্রতিক্রিয়াই জানান। শিল্পীর ভাষায় তিনি বলেন, “মঞ্চে উঠলে যেমন গানের অনুরোধ আসে, রাজনীতিও অনেকটা তেমনই পারফরম্যান্স। শুধু অনুরোধের ধরনটা আলাদা। মানুষ হয়তো বলবেন রাস্তা করে দিন বা স্কুল করে দিন। সবটাই মানুষের টাকায় হয়।” ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আগে আমায় মনোনীত হতে দিন, তারপর কাজ দিয়ে বিচার করবেন।”