শমীক এদিন বলেন, ব্যাপারটা খুবই স্পষ্ট। অনুপ্রবেশকারী, ভুয়ো ও মৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়াতেই তৃণমূলের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে যে, ভরসার জায়গাটা দুর্বল হচ্ছে। তাই এতো অস্থিরতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 4 March 2026 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া (West Bengal SIR) নিয়ে আপত্তি তুলে সুপ্রিম কোর্টে একপ্রস্ত সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভোটের আগে (West Bengal Assembly Elections 2026) সাধারণ মানুষের মনে ধারণা তৈরির চেষ্টায় তা তাঁকে কিছুটা এগিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেছে কালীঘাট। সম্ভবত সেই কারণেই তা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে ৬ তারিখ থেকে এবার ধর্নায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee Dharna)। তার আগে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বোঝানোর চেষ্টা করলেন, এ নিয়ে তাঁদের কোনও আগ্রহ নেই। ‘এই কুম্ভীরাশ্রু’ কোনও প্রভাব ফেলবে না।
শমীক এদিন বলেন, ব্যাপারটা খুবই স্পষ্ট। অনুপ্রবেশকারী, ভুয়ো ও মৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়াতেই তৃণমূলের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে যে, ভরসার জায়গাটা দুর্বল হচ্ছে। তাই এতো অস্থিরতা।
তাঁর কথায়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর চাপ তৈরি করতেই এই ধর্না কর্মসূচি। বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপি মনে করে, কমিশন বা বিচারব্যবস্থা এ সবের প্রভাবমুক্ত হয়েই কাজ করবে।
শমীকের এদিন পাল্টা দাবি করেন, বিজেপির পক্ষ থেকে যে সব ফর্ম-সেভেন জমা দেওয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই ‘তৃণমূলের পেটোয়া’ সরকারি কর্মচারীরা নষ্ট করে দিয়েছে। কমিশনের সেটা দেখা উচিত। সেই সব আবেদনের পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়া প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরেও বলেন, এরপর রাজ্যে বিজেপি সরকার আসছে, তাই সরকারি কর্মীদের উচিত বুঝে-শুনে কাজ করা। কারণ বিজেপি সরকারের সঙ্গেই কিন্তু কাজ করতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, শমীকদের কথায় স্পষ্ট যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নার পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টায় নেমে পড়েছেন তাঁরা। শমীকরা বোঝাতে চাইছেন, এই ধর্না কারও অধিকার রক্ষার জন্য নয়। বরং বিপদ কোনওরকমে ঠেকাতেই এতটা বেপরোয়া ভাব শাসক দলের।
বাংলায় ভোটার তালিকার চলতি সংশোধন প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এদের মধ্যে ৫৮ লক্ষ ভোটার হয় মৃত বা অন্য রাজ্যে চলে গেছেন বা ডুপ্লিকেট ভোটার। এ ছাড়া আরও ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সির কারণে ঝুলে রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, যে জেলায় যত বেশি সংখ্যালঘু ভোটার সেই জেলায় অসঙ্গতির কারণে ঝুলে থাকা ভোটারের সংখ্যা বেশি।
বিজেপির বক্তব্য, যে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম আগেই বাদ চলে গেছে, অতীতের সব ভোটে তার সুবিধা কম বেশি নিয়েছে তৃণমূলই। এই ভোটের একটা অংশ তৃণমূলের ক্যাডাররা ভোটের দিন ইভিএমে ঢেলে দিত। সেই সুবিধা চলে গেছে। এবার শাসক দলের আশঙ্কা যে লজিকাল ডিস্ক্রেপেন্সির কারণে আরও অন্তত ২০ থেকে ৩০ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে। যা তাদের বেমক্কা বিপদে ফেলে দিতে পারে। সেটা ঠেকাতেই মাঠে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল চেষ্টা করছে, ওই ৬০ লক্ষকে কোনও বাধবিচার না করেই ভোটার তালিকায় রাখতে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, লজিকাল ডিস্ক্রেপেন্সির কারণে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম সবচেয়ে বেশি বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এদিন তাদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে তুলনা টেনেছেন শমীক। তাঁর দাবি, কিছু বিধানসভা এলাকাকে কার্যত ‘মুক্তাঞ্চল’ বানিয়ে রাখা হয়েছে। সিতাই, শীতলখুচি ও ডায়মন্ড হারবারের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে আটকে রাখার ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে এই সব জায়গায়।
শমীক এও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শেষ অবাধ ও নির্ভীক ভোট হয়েছিল ২০১১ সালে। এবারের ভোট তার থেকেও স্বচ্ছ ও অবাধ হবে বলে আমরা করছি।