দোলের আবহে শুভেন্দুর বক্তব্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা যেন সুরক্ষিত থাকেন, সেই প্রার্থনাই তিনি করছেন। তাঁর মন্তব্যের পর ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান শোনা যায়।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 4 March 2026 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোলের দিন ভবানীপুরে (Bhawanipur Holi 2026) তোলা একাধিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক (West Bengal Assembly Elections 2026) দানা বাঁধল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে জোড়া এফআইআর। অভিযোগ করেছে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই (DYFI)। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর এবং সংবিধানের ভাবনার পরিপন্থী।
মঙ্গলবার সন্ধেয় বালিগঞ্জ থানায় প্রথম লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। বুধবার ভবানীপুর থানাতেও (Bhawanipur PS) আরেকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। সংগঠনের বক্তব্য, “শুভেন্দুর নাস্তিকতা নিপাত যাক, সেকুলারিজম নিপাত যাক” - এই স্লোগান কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের বিরোধিতা। তাই আইনানুগ পদক্ষেপের দাবি তুলেছে তারা।
দোলের আবহে শুভেন্দুর বক্তব্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা যেন সুরক্ষিত থাকেন, সেই প্রার্থনাই তিনি করছেন। তাঁর মন্তব্যের পর ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান শোনা যায়। পাশাপাশি ভক্তিমূলক গানে অংশ নিতেও দেখা যায় তাঁকে। এই ঘটনাকেই সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, উৎসবের মঞ্চেও নির্বাচনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ডিওয়াইএফআইয়ের অভিযোগ, এত গুরুতর মন্তব্যের পরও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, রাজ্যের একাধিক থানায় আরও অভিযোগ দায়ের করা হবে।
গত কয়েক মাসে ভবানীপুরে শুভেন্দুর সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ঘন ঘন সফর, দলীয় বৈঠক এবং সংগঠন মজবুত করার উদ্যোগ নজরে এসেছে। এলাকায় একটি বিশেষ কৌশলকেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও শোনা যাচ্ছে। ফলে জল্পনা শুরু হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কি এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হতে পারেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর শক্ত ঘাঁটিতে আগেভাগে সংগঠন গোছানো বিরোধী শিবিরের কৌশলের অংশ হতে পারে। বিজেপির একাংশের ধারণা, আগামী নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর থেকেই লড়তে পারেন। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই জমি প্রস্তুতের ইঙ্গিত মিলছে।
অন্যদিকে, ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুভেন্দু দাবি করেছিলেন, ভবানীপুরে মমতাকে জেতানোর মতো সমর্থন আর নেই। তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রীও পাল্টা বলেছেন, যত বাধাই আসুক, ভবানীপুর থেকে তিনিই জয়ী হবেন। ফলে দোলের স্লোগান ঘিরে তৈরি বিতর্ক এখন বৃহত্তর নির্বাচনী সমীকরণের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।