গত কয়েক মাসে ভবানীপুরে শুভেন্দুর সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। একাধিক সফর, দলীয় বৈঠক এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির পাশাপাশি সেখানে একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির কথাও শোনা যাচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 3 March 2026 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোলের সকালে (Holi 2026) রঙের উৎসবেই ভবানীপুরে চড়ল রাজনীতির (West Bengal Elections 2026) তাপমাত্রা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিধানসভা কেন্দ্রে পৌঁছে গেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আবির খেলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি উৎসবের মঞ্চ থেকেই শোনালেন স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান।
জনতার উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্য, “নাস্তিকতা নিপাত যাক, সেকুলারিজম নিপাত যাক। পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) হিন্দুরা যেন সুরক্ষিত থাকেন, সেই প্রার্থনাই করি।” তাঁর এই বক্তব্যের পর ভেসে ওঠে ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান। পরে ‘গোরা গোরা গৌরাঙ্গ’ গানে গলা মেলাতেও দেখা যায় তাঁকে। দোলের আবহে এমন বার্তা ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
গত কয়েক মাসে ভবানীপুরে শুভেন্দুর সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। একাধিক সফর, দলীয় বৈঠক এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির পাশাপাশি সেখানে একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির কথাও শোনা যাচ্ছে। নিয়মিত কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এলাকা ভিত্তিক সংগঠন গোছানোর উদ্যোগে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। তবে কি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই লড়াইয়ে নামতে পারেন তিনি? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর শক্ত ঘাঁটিতে সংগঠন মজবুত করাই এখন বিরোধী শিবিরের অন্যতম কৌশল। বিজেপি নেতৃত্বের অনুমান, আগামী নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী হতে পারেন। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আগেভাগে জমি প্রস্তুত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পরাজয়ের পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকেন। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৬-কে সামনে রেখে ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে সাজানো হচ্ছে - এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। দোলের দিন শুভেন্দুর উপস্থিতি সেই জল্পনাকেই আরও উস্কে দিল।
হালে এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর ভবানীপুর নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছিলেন শুভেন্দু। বলেছিলেন, 'মমতাকে জেতানোর লোক আর নেই ভবানীপুরে।' যদিও সোমবারই ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে বিরাট দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, “বিজেপি যত চক্রান্তই করুক, একটা ভোট থাকলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব।”
মমতার কথায়, “নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। যাঁরা প্রকৃত ভোটার, তাঁদের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়ে তড়িঘড়ি ভোট করাতে চাইছে তারা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলার মানুষ সচেতন এবং তাঁরা ব্যালটেই এই অন্যায়ের যোগ্য জবাব দেবেন।