মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে মহাপ্রভুর সাম্যের বাণী। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কিংবা জাতি-ধর্মের বিভাজন ছাড়িয়ে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই ছিল তাঁর মূল শক্তি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 3 March 2026 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোল পূর্ণিমার (Holi) রঙিন আবহে এদিনই পালিত হচ্ছে গৌর পূর্ণিমা - শ্রী চৈতন্যদেবের আবির্ভাব দিবস (Sri Chaitanya Mahaprabhu)। রঙের উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি মানবতার কথা স্মরণ করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লেখেন, চৈতন্যদেবের জীবনদর্শন গত পাঁচশো বছর ধরে বাংলাকে পথ দেখিয়েছে, আজও সেই আলো অমলিন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে মহাপ্রভুর সাম্যের বাণী। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কিংবা জাতি-ধর্মের বিভাজন ছাড়িয়ে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই ছিল তাঁর মূল শক্তি। সেই প্রেম ও ঐক্যের দর্শনই বাংলার নবজাগরণের ভিত গড়েছিল - এমনটাই উল্লেখ করেন প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর কথায়, “মহাপ্রভুর ধর্ম মানে মানবতার ধর্ম।”
এই উপলক্ষে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। চৈতন্যদেবের জন্মস্থান নবদ্বীপকে (Nabadwip) ‘হেরিটেজ টাউন’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মায়াপুরে ISKCON-এর তীর্থক্ষেত্রকে ঘিরে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৭০০ একর জমির বন্দোবস্ত করেছে রাজ্য সরকার - এ তথ্যও সামনে আনেন তিনি।
শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব দিবস ও গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন ও তাঁর মানবতার আদর্শ বিগত ৫০০ বছর ধরে আমাদের পথ দেখাচ্ছে, উদ্বুদ্ধ করে চলেছে।
মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ধনী-দরিদ্র, বিদ্বান-মূর্খ, জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে…— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 3, 2026
দোল ও গৌর পূর্ণিমার যুগল উদযাপনে তাই এ বার্তা স্পষ্ট - ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখাই বাংলার দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সহিষ্ণুতার যে ঐতিহ্য চৈতন্যদেবের বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার উপর যেন কোনও আঁচ না পড়ে।
বিধানসভা ভোটের আবহে সোমবার বড় দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যেমন সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছিলেন, তেমনই ভোটার তালিকা সংশোধন এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে বিঁধেছেন তিনি। বলেন, “বিজেপি যত চক্রান্তই করুক, একটা ভোট থাকলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব।”
দোল উৎসবের আবহে তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলার সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের আবেগই তাঁর প্রধান শক্তি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় তিনি যে বিন্দুমাত্র ভীত নন, তা বুঝিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, চক্রান্ত করে কাউকে হারানো যায় না।