সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কমিশন বাংলার গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 2 March 2026 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোল ও হোলির আবহে যখন চারদিকে উৎসবের মেজাজ, ঠিক তখনই রাজনীতির ময়দানে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium) প্রাক-হোলি উৎসবের মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন সম্প্রীতির বার্তা দিলেন, তেমনই ভোটার তালিকা সংশোধন এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে বিঁধলেন তিনি। বললেন, “বিজেপি যত চক্রান্তই করুক, একটা ভোট থাকলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব।”
কমিশনের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাত’ ও গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ
এ দিন উৎসবের মেজাজেই 'রণং দেহি' তৃণমূল নেত্রী। সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কমিশন বাংলার গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। মমতার কথায়, “নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। যাঁরা প্রকৃত ভোটার, তাঁদের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়ে তড়িঘড়ি ভোট করাতে চাইছে তারা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলার মানুষ সচেতন এবং তাঁরা ব্যালটেই এই অন্যায়ের যোগ্য জবাব দেবেন।
ভবানীপুরের অঙ্ক ও ভোটার তালিকায় ‘কারচুপি’
নিজের পুরনো এবং ঘরের কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিসংখ্যানের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ভবানীপুর একটি ছোট কেন্দ্র, যেখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল এই কেন্দ্র থেকে। এবারও প্রায় দু'-হাজার নতুন ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
মমতার অভিযোগ, মৃত ভোটারদের তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে প্রতিটি আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর দল প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছে। তা সত্ত্বেও কেন বারবার সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি কেন্দ্রের ওপর দায় চাপিয়েছেন।
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখন সিবিআই-ইডির মতো এজেন্সি এবং নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর রোধ করতে চাইছে। তবে দোল উৎসবের আবহে তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলার সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের আবেগই তাঁর প্রধান শক্তি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় তিনি যে বিন্দুমাত্র ভীত নন, তা বুঝিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, চক্রান্ত করে কাউকে হারানো যায় না।