এই মামলাকে কেন্দ্র করে এখন নজর জিএসটি কাউন্সিলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রের বিস্তারিত হলফনামার দিকেই।

দিল্লি দূষণ
শেষ আপডেট: 26 December 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বায়ুদূষণ বাড়তে (Air Pollution) থাকায় এয়ার পিউরিফায়ারের উপর জিএসটি (GST) কমানোর দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) বিরোধিতা করল কেন্দ্র (Centre)। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এয়ার পিউরিফায়ারকে ‘মেডিক্যাল ডিভাইস’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা বা জিএসটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জিএসটি কাউন্সিলের নয়। এই ধরনের শ্রেণিবিন্যাস স্বাস্থ্য মন্ত্রক বিস্তারিত যাচাইয়ের পর করে থাকে।
এই মামলায় কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এন ভেঙ্কটারামন বিচারপতি বিকাশ মহাজন ও বিচারপতি বিনোদ কুমারের বেঞ্চকে জানান, মাত্র দু’দিনের মধ্যে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত হলফনামা দাখিলের জন্য তিনি আদালতের কাছে সময় চান।
কেন্দ্রের আইনজীবী আরও বলেন, জিএসটি কমানোর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। জিএসটি কাউন্সিল একটি সাংবিধানিক সংস্থা এবং এটি ফেডারেল কর কাঠামোর অংশ। সব রাজ্য এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে। কোনও সিদ্ধান্ত যদি ভোটের মাধ্যমে নিতে হয়, তা কেবলমাত্র সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমেই সম্ভব।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ডিসেম্বর মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট জাতীয় রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের কথা মাথায় রেখে এয়ার পিউরিফায়ারের উপর জিএসটি কমানোর বিষয়টি বিবেচনার জন্য জিএসটি কাউন্সিলকে জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছিল।
এ দিন আদালতের প্রশ্নের উত্তরে এএসজি বলেন, “এ ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে যাবে। সংসদীয় কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে, সেগুলি বিবেচনাধীন। এর সঙ্গে সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। আমরা বলছি না যে হবে বা হবে না— কিন্তু একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে।”
এই মামলাকে কেন্দ্র করে এখন নজর জিএসটি কাউন্সিলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রের বিস্তারিত হলফনামার দিকেই।
এদিকে, রাজধানী দিল্লিতে দূষণের মাত্রা চোখ খুলে দিয়েছে দেশের সকল প্রথম সারির শহরের। শহর কলকাতাও দিল্লির ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবেশ দূষণ রুখতে একের পর এক পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। শীতের মরসুমে শহরের বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছোনোর প্রেক্ষিতে রাস্তার ধারে শুষ্ক পাতা ও আবর্জনা পোড়ানো বন্ধ করতে পুলিশের সহায়তা চেয়েছে কলকাতা পুরসভা।
বায়ুর মানের ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভার পরিবেশ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইন-চার্জদের কাছে চিঠি পাঠানো হবে, যাতে শীতের ভোরবেলায় কিংবা সন্ধ্যায় বা রাতে রাস্তার ধারে পাতা পোড়ানোর ঘটনা নজরদারি করে বন্ধ করা যায়।