Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
স্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়

দূষণের দাপট, মাশুল দিচ্ছে স্বাস্থ্য! আই ড্রপ, মাস্ক ও নেবুলাইজারের বিক্রি বাড়ছে দিল্লিতে

চোখে জ্বালা-লালচে ভাব, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা বেড়েছে রাজধানীতে। ফলে দিল্লির বিভিন্ন ওষুধের দোকানে চোখের ড্রপ, মাস্ক, নেবুলাইজার এবং শ্বাসযন্ত্র সংক্রান্ত সামগ্রীর দেদার বিকোচ্ছে।

দূষণের দাপট, মাশুল দিচ্ছে স্বাস্থ্য! আই ড্রপ, মাস্ক ও নেবুলাইজারের বিক্রি বাড়ছে দিল্লিতে

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 22 December 2025 20:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে শীত যত বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষণও। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যে (Delhi pollution health impact)। চোখে জ্বালা-লালচে ভাব, শ্বাসকষ্ট - এই সব সমস্যার অভিযোগ বেড়েছে রাজধানী জুড়ে (Winter health issues)। তার ফলেই দিল্লির বিভিন্ন ওষুধের দোকানে চোখের ড্রপ (eye drops), মাস্ক (Masks), নেবুলাইজার (Nebuliser) এবং শ্বাসযন্ত্র সংক্রান্ত সামগ্রীর বিক্রি হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে।

রাজধানীর একাধিক মেডিক্যাল স্টোর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর শীত ও দূষণ বাড়লেই এই ধরনের পণ্যের চাহিদা বাড়ে। তবে এ বছর চোখের সমস্যার অভিযোগ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চোখের ড্রপের বিক্রি অন্য সব ওষুধকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

লুটিয়েন্স দিল্লির কেয়ার কেমিস্টস-এর কর্মী সুরেশ জানান, “দূষণের মাত্রা বাড়লেই চোখের ড্রপ, নাকের স্প্রে আর মাস্কের বিক্রি স্পষ্ট ভাবে বেড়ে যায়। সাধারণত কাশি-সিরাপ বেশি বিক্রি হয়, কিন্তু এ বার চোখের ড্রপ সবচেয়ে দ্রুত বিকোচ্ছে।”

আরএমএল হাসপাতালের কাছে রাম ফার্মাসির কেমিস্ট শ্রাবণ বলছেন, “এখন রোজই মানুষ চোখে জ্বালা, লালচে ভাবের অভিযোগ নিয়ে দোকানে আসছেন। চোখের ড্রপ, স্টিম নেওয়ার যন্ত্র আর নাসাল স্প্রের বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।”

রাজকমল কেমিস্টস-এর অমিত গুপ্ত জানান, শীত ও দূষণের কারণে চোখের শুষ্কতাই এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। “এই সময়ে চোখের ড্রপ ও নাসাল স্প্রের বিক্রি অন্তত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ঠান্ডা আর দূষণের জন্য চোখ খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।”

দিল্লি ড্রাগ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনও এই প্রবণতাকে ‘পরিচিত মরসুম ট্রেন্ড’ বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশিস দাভরাজ জানান, “প্রতি বছর শীত পড়লেই এবং দূষণ বাড়লেই চোখের ড্রপ, মাস্কের মতো পণ্যের বিক্রি বেড়ে যায়। এই সময়ে চোখে জ্বালা ও অস্বস্তির অভিযোগ খুব সাধারণ ব্যাপার, আর বিক্রি গড়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।”

তিনি আরও জানান, নেবুলাইজারের চাহিদাও এই সময়ে খানিকটা বাড়ে। “নেবুলাইজার সাধারণত ঘনঘন কেনা হয় না। কোভিডের সময় অনেক পরিবারই কিনে ফেলেছিল। তবে যেসব বাড়িতে নবজাতক বা বয়স্ক মানুষ আছেন, তাঁরা এই সময়ে নতুন করে নেবুলাইজার কিনছেন বা বদলাচ্ছেন। ফলে চাহিদা কিছুটা বাড়ছে।”

গোল মার্কেট এলাকার এক কেমিস্ট ইরফান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নেবুলাইজারের বিক্রি তাঁদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ভাবে বেড়েছে। “এগুলি দামি ও দীর্ঘদিন ব্যবহারের জিনিস, তাই সাধারণত খুব একটা বিক্রি হয় না। কিন্তু গত তিন দিনে পাঁচজন ক্রেতা নেবুলাইজার কিনেছেন। এমনকি এক বিদেশি দম্পতি তাঁদের শিশুর শ্বাসকষ্টের কারণে নেবুলাইজার কিনে নিয়ে গিয়েছেন।”

অনেক কেমিস্ট জানাচ্ছেন, একই পণ্য কিনতে ক্রেতারা বারবার ফিরছেন। “১০-১২ দিনের মধ্যেই মানুষ আবার চোখের ড্রপ বা নাসাল স্প্রে কিনতে আসছেন,” বলেন এক দোকানদার। তাঁর মতে, চোখের শুষ্কতা কমানোর ড্রপ ও গলার লজেন্সের বিক্রি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।

ক্রেতারাও বলছেন, আগের তুলনায় ফার্মেসিতে যাতায়াত অনেক বেড়ে গিয়েছে। ২৪ বছরের অমিত বলেন, “আগে একটা ওষুধেই পুরো পরিবারের কাজ চলে যেত। এখন বয়স্কদের জন্য চোখের ড্রপ, স্কুলে যাওয়া বাচ্চাদের জন্য মাস্ক, আর নিজেদের জন্য ট্যাবলেট - সব আলাদা করে কিনতে হচ্ছে।”

অমিতের বন্ধু ভবানী যোগ করেন, “হাসপাতালে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই আমরা ফার্মেসি থেকেই ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ আর ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর ভরসা করছি।”

দিল্লির শীতকালীন দূষণ যে ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে, এই বাড়তে থাকা ওষুধ বিক্রিই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।


```