দূষণ নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ দিল্লি সরকারের। বৈধ পলিউশন সার্টিফিকেট না থাকলে পেট্রোলপাম্পে আর মিলবে না তেল। নজরদারিতে এএনপিআর ক্যামেরা ও ট্র্যাফিক পুলিশের কড়া পাহারা, তবে জরুরি পরিষেবার গাড়ি ছাড় পাচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 December 2025 08:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে শ্বাস নেওয়া একাধিক সিগারেট খাওয়ার সমান। শীত পড়তেই অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে রাজধানীর বায়ুদূষণ। রবিবার একিউআই ছুঁয়েছিল ৫০০। জারি গ্র্যাপ ৪ বিধিনিষেধ। এই পরিস্থিতিতেই আরও কড়া সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি সরকার। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র না থাকলে (PUCC – Pollution Under Control Certificate) পেট্রোলপাম্পে জ্বালানি মিলবে না। কার্যকর হচ্ছে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ থেকেই।
দিল্লি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য গাড়ি থেকে নির্গত দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ, দিল্লির বায়ুদূষণের অন্যতম বড় উৎস হল যানবাহন। এই নির্দেশ কার্যকর করতে পেট্রোলপাম্পগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করে দূষণ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে ব্যবহার করা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (ANPR – Automatic Number Plate Recognition)। পাশাপাশি, পেট্রোলপাম্পে সরাসরি তল্লাশিও চালানো হচ্ছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে কিছু অত্যাবশ্যক পরিষেবার গাড়িকে। অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল (Fire Brigade Vehicles), পুলিশ ভেহিকল (Police Vehicles) এবং জরুরি পণ্য পরিবহণকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা (Manjinder Singh Sirsa) এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে বলেন, 'রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া দিল্লির দূষণের অন্যতম বড় কারণ। সেটা নিয়ন্ত্রণে না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।' পরিবেশমন্ত্রীর দাবি, এই পদক্ষেপ দূষণ কমানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
নির্দেশটি কার্যকর করতে ট্র্যাফিক পুলিশ (Traffic Police) মোতায়েন করা হয়েছে পেট্রোলপাম্পগুলিতে। পাশাপাশি পরিবহণ দফতর (Transport Department) এবং পুরসভার আধিকারিকরাও (Municipal Corporation) নজরদারিতে রয়েছেন।
নির্দেশ জারি হওয়ার পর থেকেই পিইউসিসি আপডেট করাতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে বিভিন্ন পিইউসিসি কেন্দ্রের সামনে লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। অনেকেই শেষ মুহূর্তে শংসাপত্র আপডেট করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ চালকদের মধ্যে ক্ষোভও কম নয়। বহু চালকের অভিযোগ, দিল্লি ছাড়া দেশের অন্যান্য শহরে এমন কড়াকড়ি নেই, তবু সেখানে দূষণ নিয়ন্ত্রণে। এক চালক বলেন, “এই সিদ্ধান্তে অফিসযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে। মানুষ কাজেও যেতে পারবে না।” তাঁর আরও অভিযোগ, সরকার জল ছিটিয়ে বা লোক দেখানো ব্যবস্থা করে ভাবছে দূষণ কমবে। আগের বছর বসানো ফিল্টার বা এয়ার পিউরিফায়ারের ফল কোথায়, সেই প্রশ্নও তুলছেন তিনি।
আর এক চালকের বক্তব্য, “এতে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি হবে। গতকালও পিইউসিসি আপডেট করতে গিয়েছিলাম, হয়নি। আজ বাধ্য হয়ে আবার আসতে হল।”
সব মিলিয়ে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কড়া অবস্থান যেমন স্পষ্ট, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে অসন্তোষও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার, এই কড়াকড়ি আদৌ দিল্লির আকাশ পরিষ্কার করতে কতটা কাজে আসে।