উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় কুয়াশা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে আজ ও আগামীকাল সকালে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা আপাতত নেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 February 2026 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা থেকে শীত কার্যত বিদায় (West Bengal Winter Update) নিতে শুরু করেছে। ভোর হোক বা রাত - সেই ঠান্ডার অনুভূতি আর নেই। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে - সোয়েটার, চাদর, লেপ তুলে রাখার সময় হয়ে গেছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা (Rainfall Forecast) নেই। আকাশ থাকবে মূলত পরিষ্কার, বাতাস শুষ্ক। দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হবে। শীতের শেষ রেশটুকুও সপ্তাহের শেষে অনেকটাই মুছে যাবে।
কলকাতায় বর্তমানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (Kolkata Weather Update) ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে আগামী সপ্তাহে তা বেড়ে ১৯ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে ইঙ্গিত। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রির ঘরে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ দুপুরের পর থেকেই গরমের অনুভূতি স্পষ্ট হবে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও প্রায় একই ছবি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩২ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৭ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করবে। সকালে হালকা কুয়াশা বা শিশিরের আমেজ থাকলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। সকাল ৮টা-৯টার মধ্যেই উধাও হয়ে যাবে শীতের আবহ।
চলতি সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গের কল্যাণীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উত্তরবঙ্গের সমতল অঞ্চলে, বিশেষত মাঝিয়ানে, তাপমাত্রা ছিল ১১.৮ ডিগ্রি। পাহাড়ে অবশ্য এখনও শীতের ছোঁয়া টের পাওয়া যাচ্ছে - দার্জিলিংয়ে পারদ নেমেছে ৫ ডিগ্রিতে। কলকাতায় শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় কুয়াশা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে আজ ও আগামীকাল সকালে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতিও নজরে রাখছে হাওয়া অফিস। পূর্ব ভারত মহাসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপরে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই এলাকায় একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। যদিও আপাতত তার সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়ার সম্ভাবনা নেই।
হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব থাকলেও রাজ্যে তার তেমন কোনও ছাপ পড়ছে না। চরম আবহাওয়া বা বিশেষ সতর্কবার্তারও প্রয়োজন পড়েনি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি বছর এল নিনোর প্রভাবে দেশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এর ফলে গ্রীষ্ম তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে সপ্তাহান্তের দিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা আরও স্পষ্ট হবে। উত্তরবঙ্গে কুয়াশা কমবে, দিনের পারদ বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গেও আগামী দু’দিনে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। শীতের বিদায় এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।