স্মিতা পাটিলের ছেলে প্রতীককে জড়িয়ে আবেগে ভাসলেন শাবানা আজমি, ভাইরাল ভিডিওতে উঁকি দিল পুরনো স্মৃতি।

প্রতীক-শাবানা, ২৫ বছরের ব্যবধানে
শেষ আপডেট: 13 February 2026 21:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝড় তুলেছে অভিনেত্রী শাবানা আজমি (Shabana Azmi) এবং প্রয়াত অভিনেত্রী স্মিতা পাতিলের (Smita Patil) ছেলে প্রতীক স্মিতা পাতিলের (Prateik Smita Patil) এক বিশেষ মুহূর্ত। মিশেলিন-স্টার শেফ বিকাশ খান্না (Vikas Khanna) পরিচালিত ছবি ‘ইমাজিনারি রেনে’র (Imaginary Rain) সেট থেকে ভাইরাল হয়েছে ভিডিও। দেখা গিয়েছে, বহু বছর পরে মৃত সহকর্মীর ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আবেগে ভেসে যাচ্ছেন শাবানা।
ভিডিওতে প্রতীককে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায়, “২৫ বছর ধরে এই আলিঙ্গনের অপেক্ষা ছিল।” জবাবে প্রতীক বলেন, “না না, এই ২৫ বছরে আপনি আমাকে অনেক বারই জড়িয়ে ধরেছেন।” শাবানা আবার বলেন, “আমি জানি স্মিতা (Smita Patil) আমাদের দেখছে।” প্রতীক-র উত্তর, “হ্যাঁ, হাসছে নিশ্চয়ই।”
এই বিশেষ সম্পর্কের শিকড় বহু পুরনো। ‘আর্থ’ (Arth) এবং ‘মাণ্ডি’র (Mandi) মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল শাবানা ও স্মিতার মধ্যে।
ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমার দুই কিংবদন্তি অভিনেত্রী দুজন। আর্থ ও মাণ্ডির সময় একসঙ্গে দুর্দান্ত কাজ করলেও, তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হয়েছিল একটা সময়ে। বলিউডে এর জন্য চর্চাতেও ছিলেন বহুদিন। তাঁদের মধ্যে একটা 'প্রতিদ্বন্দ্বিতা' ছিল, যা কখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। যদিও, দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠরা চেষ্টা করেছিলেন। শাবানার স্বামী জাভেদ আখতার এবং স্মিতা পাতিলের স্বামী রাজ বব্বর এই সম্পর্ক মেরামতের জন্য এগিয়েও এসেছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছিল।
দুই অভিনেত্রীর মধ্যে পেশাগত প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা চলেছে বি-টাউনে। অনেকে মনে করতেন, শাবানার কারণে স্মিতা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হাতছাড়া করেছেন। যদিও সম্প্রতি শাবানা জানিয়েছেন, স্মিতা মনে করতেন কিছু চরিত্র তাঁর থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু পরিচালকেরা যেমন শ্যাম বেনেগাল বরাবরই নির্দিষ্ট করে জানতেন, কার জন্য কোন চরিত্র আর তিনিই সবটা ঠিক করতেন।
তবুও দ্বন্দ্ব ছিলই। যা শুধরে নেওয়ার সুযোগ পাননি শাবানা। স্মিতার মৃত্যুর পর আফসোশ ছিল বিরাট। সেই সূত্রে শাবানা–জাভেদ (Javed Akhtar) প্রতীককে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। প্রতীক ও জানেন সে বিষয়টি। বলেন, “মা মারা যাওয়ার পর সবটা খুব জটিল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শবানা জি আর জাভেদ সাহেব আমাকে অ্যাডপ্ট করতে চেয়েছিলেন। তা হলে আমি ফরহান আখতারের (Farhan Akhtar) সৎভাইও হতে পারতাম।”
তিনি আরও বলেন, “জীবন নিয়ে এ রকম অনেক তথ্যই হঠাৎ সামনে আসে। খুব ওভারহেল্মিং লাগে। যদি সত্যি দত্তক নেওয়া হত, কী ধরনের জীবন যেত—ভাবতেই পারি না।”
প্রতীক গভীরভাবে কৃতজ্ঞ তাঁর মা-র ইন্ডাস্ট্রি-বন্ধুদের প্রতি। তাঁর কথায়, “অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan) সব সময়ই খুব স্নেহ করেছেন। নাসিরুদ্দিন শাহ (Naseeruddin Shah), রত্না পাঠক শাহ (Ratna Pathak Shah), শ্যাম বেনেগল (Shyam Benegal)—সবাই মা-কে খুব ভালবাসতেন। আমাকেও।”
সাক্ষাৎকারে প্রতীক আরও একটি তাজ্জব করা তথ্য জানান, তিনি জানতে পেরেছেন যে তাঁর জন্মের সঙ্গে ‘মির্চ মশলা’ (Mirch Masala, 1987) ছবির যোগ রয়েছে।
শৈশবের বিভ্রান্তি, হেফাজত লড়াই এবং আজকের স্বস্তি
প্রতীক আবেগভরে জানান, তাঁর ছোটবেলায় নানা রকম কথা কানে এসেছে—হেফাজত নিয়ে লড়াই, বিভিন্ন মানুষ তাঁকে দত্তক নিতে চাওয়ার প্রসঙ্গ, অনেক অস্থিরতা। ছোট বয়সে এসব বোঝা কঠিন ছিল। তবু আজ তিনি কৃতজ্ঞ যে, সেই সময় তাঁর মা-র সহকর্মী এবং বন্ধুদের ভালবাসা তাঁকে আগলে রেখেছিল।
এই ভিডিও দেখে অনেকেই আপ্লুত হয়েছে, করেছেন স্মৃতিচারণাও।