বলিউডের ইতিহাসে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বারবার ফিরে আসে। কলেজ ফেস্ট থেকে শুরু করে ক্লাসরুম—এই বিশ্ববিদ্যালয় বহু প্রতিভার জন্ম দিয়েছে, যাঁরা পরে বড় পর্দায় এসে ছাপ ফেলেছেন।

স্মিতা-চিত্রাঙ্গদা
শেষ আপডেট: 30 August 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের ইতিহাসে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বারবার ফিরে আসে। কলেজ ফেস্ট থেকে শুরু করে ক্লাসরুম—এই বিশ্ববিদ্যালয় বহু প্রতিভার জন্ম দিয়েছে, যাঁরা পরে বড় পর্দায় এসে ছাপ ফেলেছেন। সম্প্রতি সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন নতুন মুখ অনীত পাড্ডা, যিনি ‘সাইয়ারা’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকা হয়ে উঠেছেন। তবে তাঁর বহু বছর আগে আর এক দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, নিজের প্রথম ছবিতেই শিল্পীসুলভ অভিনয়ে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে। তাঁকে একসময় তুলনা করা হয়েছিল স্মিতা পাটিল এবং শাবানা আজমির মতো কিংবদন্তি অভিনেত্রীর সঙ্গে। তিনি হলেন চিত্রাঙ্গদা সিংহ।
১৯৭৬ সালের ৩০ অগাস্ট, রাজস্থানের জোধপুরে জন্ম চিত্রাঙ্গদার। সেনা পরিবারে বেড়ে ওঠা। বাবা নিরঞ্জন সিং ছিলেন সেনা অফিসার, আর ভাই দিগ্বিজয় সিং পরবর্তীতে পেশাদার গলফার হন। মীরাটে পড়াশোনা শেষ করে চিত্রাঙ্গদা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে হোম সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশন করেন। অল্প লোকই জানেন, অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি কাথক নৃত্যেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সেই নাচই তাঁর স্ক্রিন-প্রেজেন্সে এনে দেয় অন্য রকম এক দীপ্তি।
সরাসরি সিনেমায় আসা হয়নি চিত্রাঙ্গদার। প্রথমে তিনি মডেলিং দিয়ে শুরু করেন—আইসিআইসিআই ব্যাংক, আলুক্কাস জুয়েলারি, গার্নিয়ের-এর মতো ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। পাশাপাশি নজর কাড়েন গুলজারের মিউজিক ভিডিও Sunset Point-এ। তবে ২০০৩ সাল বদলে দিল তাঁর জীবন। পরিচালক সুধীর মিশ্র তাঁকে কাস্ট করলেন হাজারো খোয়াশি অ্যায়সি ছবিতে।
সেই ছবিতে গীতা রাওয়ের চরিত্রে অভিনয় করে চিত্রাঙ্গদা এতটাই দাগ কাটলেন, যে তাঁকে স্মিতা পাটিল আর শাবানা আজমির সঙ্গে তুলনা করা শুরু হল। রাতারাতি সমালোচকদের চোখে উঠে এলেন এক তুখোড় অভিনেত্রী হিসেবে—তাঁর অভিনয়ের তীব্রতা আর আন্তরিকতা মুগ্ধ করেছিল সবাইকে।

কিন্তু পর্দার বাইরের জীবন এত সহজ ছিল না। চিত্রাঙ্গদা বিয়ে করেছিলেন পেশাদার গলফার জ্যোতি রন্ধাওয়াকে। তবে ২০১৪ সালে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। তারপর থেকে তিনি একাই সামলাচ্ছেন তাঁদের ছেলে, জোরাওয়ার রন্ধাওয়াকে।
অভিনয়ে তিনি বিরতি নিলেও ফেরেন ২০০৮ সালে Sorry Bhai ছবির মাধ্যমে। তারপর থেকে বেছে বেছে কাজ করেছেন—মাঝে মূলধারার গ্ল্যামার, তো কখনও গভীর চরিত্র। Yeh Saali Zindagi (২০১১) আর Inkaar (২০১৩)-এ তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে দিল, তিনি কেবল সুন্দরী নন, অসাধারণ অভিনেত্রীও। আবার Desi Boyz আর I, Me Aur Main-এ তিনি ফুটিয়ে তুললেন রোমান্টিক আর ঝলমলে এক দিক।

শুধু তাই নয়, জনপ্রিয় নাচের গানেও তিনি নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন। Joker ছবির গান Kaafi Joshila কিংবা Gabbar is Back-এর Aao Raja দর্শকের কাছে আজও হিট। ২০১৮ সালে আবার এক নতুন পরিচয়ে সামনে এলেন চিত্রাঙ্গদা—প্রযোজক হিসেবে। হকি খেলোয়াড় সন্দীপ সিংহের জীবন নিয়ে নির্মিত ছবি Soorma সমালোচকদের প্রশংসা কুড়োল, আর প্রমাণ করে দিল চিত্রাঙ্গদার বহুমুখী প্রতিভা।
আজকের দিনে চিত্রাঙ্গদা সিংহ শুধুই একজন অভিনেত্রী নন। তিনি একজন শিল্পী, একজন স্টাইল আইকন, আবার একজন নারী—যিনি ব্যক্তিগত লড়াই আর পেশাদার সাফল্যকে একসঙ্গে সামলে নিয়ে চলেছেন। তাঁর যাত্রাপথ শিখিয়ে দেয়—মাধুর্যের সঙ্গে দৃঢ়তা, গ্ল্যামারের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস—সব একসঙ্গে মেলে ধরাই একজন সত্যিকারের শিল্পীর পরিচয়।