‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তির অপেক্ষায়। অথচ ছবির মুক্তির আগেই তৈরি হয়েছে একের পর এক নতুন বিতর্ক। ছবির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী ও অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে এখন বলিউড ও টলিউডের চলছে তুমুল উত্তেজনা।

শেষ আপডেট: 18 August 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তির অপেক্ষায়। অথচ ছবির মুক্তির আগেই তৈরি হয়েছে একের পর এক নতুন বিতর্ক। ছবির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী ও অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে এখন বলিউড ও টলিউডের চলছে তুমুল উত্তেজনা।
সম্প্রতি এক ‘দ্য ওয়াল’-এর সাক্ষাৎকারে শাশ্বত জানান, শুটিংয়ের সময় ছবির নাম ছিল ‘দ্য দিল্লি ফাইলস’। কাজ শেষ হওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন নাম পাল্টে হয়েছে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। তাঁর কথায়, এখনকার দিনে পরিচালকরা অনেক সময় পুরো গল্প অভিনেতাদের জানান না, চরিত্রের ট্র্যাকটাই শুধু বোঝানো হয়। শাশ্বতের চরিত্রও তেমনই—এক ভয়ঙ্কর খলনায়কের চরিত্র, যেটা তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। কিন্তু ছবির নাম পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি একেবারেই অবগত ছিলেন না।
এই মন্তব্য নিয়েই মুখ খুলেছেন পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী।
দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মানুষ অনেক সময় যেটা বলতে বলা হয়, সেটাই বলে। শাশ্বত ভারতের অন্যতম সেরা অভিনেতা। ওর কাজ অসাধারণ হয়েছে, এমনকি এই ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেতে পারে। তবে আজ যদি কেউ এসে দাবি করে যে আগে কিছু জানত না, সেটার উত্তর আমার কাছে নেই। কারণ ছবির শুরুর দিকেই তো ‘বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ ছিল নামের মধ্যে।”
পরিচালকের আরও বক্তব্য, “শাশ্বত ছবিতে কলকাতার এক প্রাক্তন বিধায়কের চরিত্রে অভিনয় করছে। গল্পটা সম্পূর্ণ বাংলায় ঘটছে। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেই বাঙালি অভিনেতারা রয়েছেন। পোস্টার যখন বেরোয়, সেটা সবার কাছে পাঠানো হয়েছিল। নাম বদল অনেক আগে হয়ে গেছে, হঠাৎ নয়। সবাই জানত। তাই এখন কেউ কিছু অস্বীকার করলে সেটা অন্য কারণেই।”
এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর কণ্ঠে শোনা গেল রাজনৈতিক আভাসও—“বাংলায় এখনকার শাসকদল যেটা বলতে বলে, অভিনেতারা সেটা-ই বলেন।” অন্যদিকে শাশ্বতের সোজাসাপ্টা উত্তর, “কেন ছবির নাম পাল্টানো হল, সেটা আমি ছবিটা না দেখা পর্যন্ত বুঝব না। তাছাড়া এসব আমার হাতে নেই।” অভিনেতার দৃঢ় বক্তব্য, “শুধু আওয়াজ তুলে কোনও লাভ হবে না। আমার কাজ আমি করেছি। আমি অভিনেতা, ইতিহাসবিদ নই।”
‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিটি ১৯৪৬-এর ভয়াবহ ইতিহাস—ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে আর নোয়াখালির দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নির্মিত। যেখানে মানবিকতার চেয়ে হিংসা, ধর্ম আর রাজনীতি বড় হয়ে উঠেছিল। মুক্তির আগে থেকেই ছবিকে ঘিরে উত্তেজনা প্রবল। কলকাতায় ট্রেলার লঞ্চ আটকে দেয় পুলিশ। সেই ঘটনায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অগ্নিহোত্রী।