মাত্র চার দিনে রাতের পারদ ২০ থেকে ১৪ ডিগ্রিতে নেমে আচমকা শীতের দাপট বাড়ল কলকাতায়। রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই তাপমাত্রা ১০–১২ ডিগ্রির ঘরে। উত্তর-পশ্চিমের ঠান্ডা হাওয়ায় জমে উঠেছে শীতের আমেজ।

আবহাওয়া
শেষ আপডেট: 7 December 2025 08:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫-এর প্রথম সপ্তাহেও একটা সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে, যে এবারের শীত জাঁকিয়ে পড়বে। মাত্র চার দিন আগেও কলকাতার রাতের তাপমাত্রা আটকে ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু সেই ধারণা পুরো বদলে দিয়ে হঠাৎই নেমে এল শীতের ঝলক। বুধবার মরশুমে প্রথমবার শহরের রাতের তাপমাত্রা নেমে আসে ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
পরের ২৪ ঘণ্টায় তা কিছুটা উঠে ১৭ ডিগ্রিতে পৌঁছয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পেরিয়ে শুক্রবার শেষরাতে (ক্যালেন্ডার মতে শনিবার ভোরে) কলকাতা আবারও সবাইকে চমকে দেয়, তাপমাত্রা নেমে আসে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, মরশুমে প্রথমবার ১৪ ডিগ্রির ঘরে।
পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজি (আইআইটিএম) জানিয়েছে, এর আগে শেষবার কলকাতার রাতের তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রির ঘরে নেমেছিল গত ২৮ জানুয়ারি। অর্থাৎ ৩১৩ দিন পরে শহর ফের সেই তাপমাত্রার স্বাদ পেল।
রাজ্যের ছবিটাও একই রকম শীতল। সল্টলেক (১৬.৭) ও মালদা (১৫.৭) ছাড়া রাজ্যের কার্যত প্রতিটি ওয়েদার স্টেশনেই শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি বা তার নীচে। শনিবার আলিপুর হাওয়া অফিসের প্রকাশ করা তথ্য বলছে, রাজ্যের সমতলে সবচেয়ে ঠান্ডা ছিল শ্রীনিকেতন (১০.২)। খুব কাছাকাছি রয়েছে কল্যাণী (১০.৩)। বাঁকুড়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৯।
এছাড়া বর্ধমান (১১), কলাইকুণ্ডা ও পানাগড় (১১.২), এবং আসানসোলের (১১.৫) সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল ১১ ডিগ্রির ঘরে। পুরুলিয়া, মেদিনীপুর, দিঘা, ক্যানিং–সহ দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জায়গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি।
উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই তাপমাত্রা চোখে পড়ার মতো কমেছে। পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিং (৬) ও কালিম্পং (১১) বাদ দিলে—
কেন এমন পড়ছে তাপমাত্রা?
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগর এখন প্রায় ‘নির্ঝঞ্ঝাট’। সাগরে কোনও ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ নেই। ফলত দেশের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা ও শুকনো বাতাস অবাধে দক্ষিণবঙ্গে ঢুকছে। এই ফ্রি-ফ্লোয়েই তাপমাত্রা দ্রুত নামছে। এর প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতেও।
সব মিলিয়ে এ রাজ্য থেকে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল—সব জায়গাতেই ধীরে ধীরে বাড়ছে শীতের দাপট।