বিস্ফোরণের তীব্রতায় শুধু ক্লাবঘরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আশপাশের বাড়িগুলিতেও তার প্রভাব পড়ে। সামনের একটি বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে যায়। এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয়দের মতে, ক্লাবঘরের পিছনের দেওয়ালটি বেশ দুর্বল ছিল। সেই অংশ ভেঙে কেউ ভিতরে ঢুকে বিস্ফোরক রেখে গিয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 March 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে রাজ্য জুড়ে যখন একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় শনিবার ভোরে পাইকপাড়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য (Paikpara Blast) ছড়ায়। এলাকার একটি ক্লাবঘরে হঠাৎ বিস্ফোরণের পর ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়ির একাংশ। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে ক্লাবঘরের টিনের ছাদ উড়ে গিয়ে পাশের একটি ছয়তলা বাড়ির ছাদে গিয়ে পড়ে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।
ভোরের দিকে আচমকাই প্রবল শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয়রা দেখতে পান ক্লাবঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে এবং ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না তদন্তকারীরা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ক্লাবঘরের ভেতরে আগেই বিস্ফোরক মজুত করে রাখা ছিল। বিস্ফোরণের পর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি বোমা উদ্ধার করেছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুটি বোতলে তরল পদার্থও উদ্ধার হয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় শুধু ক্লাবঘরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আশপাশের বাড়িগুলিতেও তার প্রভাব পড়ে। সামনের একটি বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে যায়। এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয়দের মতে, ক্লাবঘরের পিছনের দেওয়ালটি বেশ দুর্বল ছিল। সেই অংশ ভেঙে কেউ ভিতরে ঢুকে বিস্ফোরক রেখে গিয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
এলাকার অনেকেরই দাবি, ওই ক্লাবের জমি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই শরিকি বিবাদ রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে নির্মাণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়েও টানাপড়েন চলছে বলে জানা যাচ্ছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের জেরে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেনি পুলিশ।
বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে সেখানে আসে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ক্লাবঘরের ভেতরে এখনও কিছু সক্রিয় বোমা থাকতে পারে। সেই কারণেই গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ভোর প্রায় ছটা পনেরো নাগাদ আচমকা প্রবল শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে এসে তাঁরা দেখতে পান পাশের বাড়ির দিকে আগুনের শিখা উঠছে। প্রথমে এলাকার মানুষই জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। বহুদিন ধরে ক্লাবঘরটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল বলেও জানান তিনি। কে বা কারা এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে, দ্রুত তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।