একাধিক বিস্ফোরণের অভিঘাতে ক্লাবঘরের দেওয়াল ভেঙে যায় এবং ঘরের ভিতরে বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও এই বিষয়ে পুলিশ এখনও কোনও নিশ্চিত মন্তব্য করেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চিৎপুর থানার পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 March 2026 09:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে রাজ্য তথা কলকাতায় একের পর এক বোমাতঙ্কের (Bomb Blast Fear) ঘটনার মাঝেই শনিবার সকালে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল পাইকপাড়ায় (Paikpara Blast)। স্থানীয় একটি ক্লাবে পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। বিস্ফোরণের জেরে ক্লাবঘরের টিনের চাল ছিটকে গিয়ে পাশের একটি ছ'তলা বাড়ির ছাদে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে আগুনও লাগে, যা নেভাতে দ্রুত পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরের দিকে আচমকাই বিকট শব্দে (Paikpara Blast) কেঁপে ওঠে এলাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় ক্লাবঘরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভিতরে আগুন জ্বলছে। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন। কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এলাকার কিছু বাসিন্দার দাবি, ক্লাবঘরের ভিতরে আগে থেকেই বোমা মজুত ছিল।
একাধিক বিস্ফোরণের অভিঘাতে ক্লাবঘরের দেওয়াল ভেঙে যায় এবং ঘরের ভিতরে বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও এই বিষয়ে পুলিশ এখনও কোনও নিশ্চিত মন্তব্য করেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চিৎপুর থানার পুলিশ।
বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এবং দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও পৌঁছায়। অভিযোগ, ক্লাবঘরের ভিতরে এখনও কিছু তাজা বোমা থাকতে পারে। সেই আশঙ্কা মাথায় রেখে গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে আপাতত ক্লাবঘরের আশেপাশে কাউকে যেতে দিচ্ছেন না পুলিশ আধিকারিকরা।
এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ভোর প্রায় ছটা পনেরো নাগাদ আচমকা প্রবল শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তাঁদের। বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেন পাশের একটি বাড়ির দিকে আগুনের শিখা উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, বহুদিন ধরে ক্লাবঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল, তা দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।
ক্লাবের এক পদাধিকারীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্লাবঘরটি দখল করার চেষ্টা চলছিল। এলাকার কিছু মানুষের এই জায়গার উপর নজর ছিল বলেও অভিযোগ তাঁর। তাঁর বক্তব্য, যাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে, তারাই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তিনি চান পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করুক।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শিশুদের বাইরে বের করতেও এখন ভয় লাগছে। এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ পিকেট বসানো এবং নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা বসানোর দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
সম্প্রতি, বিস্ফোরণের হুমকি দিয়ে উড়ো ইমেল এসেছে রাজ্যের একাধিক নগরদায়রা আদালত, কলকাতার পাসপোর্ট অফিস এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। পুলিশ তার তদন্ত করছে। এর মধ্যেই পাইকপাড়াতেও বিস্ফোরণ ঘটল।